সরকারি কর্মীদের সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য রাখা নিয়ে বুধবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। নির্দেশিকাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হতেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার ব্যাখ্যা দিল নবান্ন। বৃহস্পতিবার কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের তরফে প্রকাশিত নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগের নির্দেশিকার প্রয়োগক্ষেত্র সীমিত করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রেই তা কার্যকর থাকবে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই নিয়ম শুধুমাত্র রাজ্য সরকারের নিয়মিত দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি সরকার নিয়ন্ত্রিত বোর্ড, পুরসভা, পুরনিগম, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং বিভিন্ন প্যারাস্ট্যাটল প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও এই বিধিনিষেধের আওতায় থাকবেন। ফলে প্রথমে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে সমস্ত সরকারি ও সরকারপোষিত কর্মীদের সংবাদমাধ্যমে কথা বলার উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে, তা অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, সংশোধিত নির্দেশিকায় শিক্ষাক্ষেত্রকে কার্যত ছাড় দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
বুধবারের নির্দেশিকা প্রকাশের পর থেকেই তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। বিরোধী দল, আইনজীবী এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশ অভিযোগ তোলে, এই সিদ্ধান্ত সরকারি কর্মীদের বাক্স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হবে। আইনি মহলেও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। যদিও সরকারের বক্তব্য ছিল, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি তথ্যের অপব্যবহার রোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
Advertisement
তবে মূল নির্দেশিকা এখনও বহাল রয়েছে। অর্থাৎ আইএএস, ডব্লিউবিসিএস, ডব্লিউবিপিএস-সহ রাজ্য সরকারের স্থায়ী আধিকারিক ও কর্মীদের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদানের উপর কড়াকড়ি জারি থাকবে। আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নির্দেশিকার পরিধি সীমিত করার মাধ্যমে সরকার আদালতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে। এদিকে, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্দেশিকা সংশোধনের ঘটনাকে নিজেদের সাফল্য বলে দাবি করেছে তৃণমূল। তাদের বক্তব্য, বিরোধিতা ও জনমতের চাপের ফলেই সরকার সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে।
Advertisement



