• facebook
  • twitter
Thursday, 21 May, 2026

দুর্নীতি রুখতে সরকারি কেনাকাটায় সিভিসির নির্দেশিকা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ শুভেন্দু সরকারের

সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে রাজ্যের সমস্ত দপ্তরে কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশন বা সিভিসির নির্দেশিকা বাধ্যতামূলক করল সরকার

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ, মমতা সরকারের আমলে কাটমানি বা কমিশন দেওয়া না হলে কোনও কাজই হতো না। সেই সব ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্যের বিজেপি সরকার।

সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে রাজ্যের সমস্ত দপ্তরে কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশন বা সিভিসির নির্দেশিকা বাধ্যতামূলক করল সরকার। অর্থ দপ্তরের তরফে জারি করা একটি নির্দেশিকায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এখন থেকে রাজ্য সরকারের অধীনস্থ সমস্ত দপ্তর, সংস্থা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে যে কোনও জিনিস কেনাকাটা, টেন্ডার বা বিভিন্ন কাজের বরাত দেওয়া এবং পরিষেবা গ্রহণের সময় কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে।

Advertisement

রাজ্যের বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে সরকারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে মূলত রাজ্যের নিজস্ব ফিনান্সিয়াল রুলস মেনে চলা হত। কিন্তু সেই প্রক্রিয়াকে ঘিরে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।  প্রশাসনিক মহলের একাংশের দাবি, নতুন সরকারের বিরুদ্ধে যাতে একই ধরনের অভিযোগ না ওঠে, তার জন্যই এই আগাম সতর্কতা।

Advertisement

প্রশাসনের কর্তারা মনে করছেন, সিভিসির নির্দেশিকা কার্যকর হলে সরকারি প্রকল্পের কেনাকাটায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং কাটমানি বা কমিশন নেওয়ার মতো অভিযোগ অনেকটাই কমবে। নবান্ন সূত্রে খবর, মমতা সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রকল্প এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার কারণেই শুভেন্দু সরকার তড়ঘড়ি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রাজ্যের অর্থসচিব প্রভাত মিশ্রের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে চালু থাকা আর্থিক নিয়মের পাশাপাশি, বাধ্যতামূলকভাবে সিভিসির সমস্ত নির্দেশিকাও মেনে চলতে হবে। এই নির্দেশিকা অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সব দপ্তরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন অর্থসচিব।

অর্থ দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, ‘মুখ্যমন্ত্রী শুরু থেকেই দুর্নীতির সব রাস্তা বন্ধ করতে চান। সে কারণেই মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পক্ষকালের মধ্যেই তাঁর এই কড়া পদক্ষেপ।’ রাজ্য প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে, সিভিসির নির্দেশিকা বাধ্যতামূলক করার ফলে সরকারি টেন্ডার ও কেনাকাটার ক্ষেত্রে আরও কড়া নজরদারি চালানো যাবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এড়াতেও এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

Advertisement