জেলবন্দি থাকাকালীন ফের গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা শেখ শাজাহান। বসিরহাট মহকুমার সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকে জোর করে জমি দখল, হুমকি দেওয়া ও লুটপাটের অভিযোগে ন্যাজাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল শেখ শাজাহানের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারাধীন বন্দি অবস্থাতেই ফের গ্রেপ্তার করা হল শাজাহানকে।
বৃহস্পতিবার শাজাহানের আইনজীবী রাজা ভৌমিক জানিয়েছেন, সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকের দুটি মামলায় তাঁর মক্কেলকে শোন অ্যারেস্ট করেছে ন্যাজাট থানার পুলিশ। এদিনই শাজাহানকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে, বিচারক তাঁকে ১৪ দিন বাদে ফের আদালতে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
Advertisement
পাশাপাশি সন্দেশখালিতে রেশন বণ্টন দুর্নীতির তদন্তে ইডি আধিকারিকদের উপর হামলার ঘটনায় তদন্তের জাল আরও বিস্তৃত করল সিবিআই। ২০২৪-এর ৫ জানুয়ারির সেই বহুল চর্চিত ঘটনার মূল অভিযুক্ত শেখ শাজাহানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দুই তৃণমূল নেত্রী সবিতা রায় ও মিঠু সর্দারকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য বসিরহাট মহকুমা আদালতে আবেদন জানাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। ২০২৪-এর ৫ জানুয়ারি ইডি আধিকারিকদের মাথা ফাটিয়ে, গাড়ি ভাঙচুর করার সেই ঘটনার সবিতা ও মিঠুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
Advertisement
এই দুই নেত্রীই ওই দিনের ঘটনায় প্রধান উস্কানিদাতা ও চক্রান্তকারী ছিল বলে পুলিশের চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার লক্ষ্য হল, সবিতা ও মিঠুকে শাজাহানের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা। ৫ জানুয়ারি ইডির তদন্তকারীদের উপর হামলার ষড়যন্ত্রকারী কারা ছিল সেই বিষয়টি সামনে আনা। তবে শুধু ইডি-র উপর হামলাই নয়, সদ্য হয়ে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরেও সন্দেশখালির বিস্তীর্ণ এলাকায় বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর চড়াও হওয়া, বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে এই দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে।
বাম আমলে শাজাহান ছিলেন সাধারণ মৎস্যজীবী। পরে তিনি বাস কন্ডাক্টর হিসেবে কাজে যোগ দেন। কিন্তু তৃণমূল জমানায় সন্দেশখালির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হয়ে ওঠেন তিনি। সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকের সভাপতি থেকে জেলা পরিষদের মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ, একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদ আসীন হয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, ভেড়ি দখল, সাধারণ মানুষের জমি কেড়ে নেওয়া এবং এলাকায় ত্রাস ছড়িয়ে সুন্দরবনের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে তিনি নিজের প্রভাবশালী সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন।
Advertisement



