• facebook
  • twitter
Monday, 11 May, 2026

ছত্তিশগড়ে দেড় কোটি টাকার এলপিজি চুরি, সরকারি আধিকারিক-সহ গ্রেপ্তার ৩

ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন খাদ্য দপ্তরের ১ আধিকারিক, ১ জন গ্যাস ডিলার এবং তাঁদের ১ সহযোগী

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে যখন গোটা বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহ এবং রান্নার গ্যাসের দাম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় ছত্তিশগড়ে সামনে এল বিপুল পরিমাণ এলপিজি চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা। অভিযোগ, ট্যাঙ্কার থেকে প্রায় ৯০ মেট্রিক টনেরও বেশি রান্নার গ্যাস চুরি করে কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন খাদ্য দপ্তরের ১ আধিকারিক, ১ জন গ্যাস ডিলার এবং তাঁদের ১ সহযোগী।

ঘটনাটি ছত্তিশগড়ের মহাসমুন্দ জেলার। তদন্তকারীদের দাবি, গোটা চক্রটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কাজ করছিল। এলপিজি ট্যাঙ্কার বাজেয়াপ্ত করার পর, ট্যাঙ্কার থেকে গ্যাস উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় একাধিক স্তরে গাফিলতি এবং যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে মহাসমুন্দের সিংহোরা এলাকার জঙ্গলের মধ্যে থেকে এলপিজি বোঝাই ৬টি ট্যাঙ্কার উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ ছিল, একটি চক্র ওই ট্যাঙ্কারগুলি থেকে গ্যাস চুরি করছিল। এফআইআর দায়ের করে ট্যাঙ্কারগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং কয়েক মাস পুলিশি হেফাজতেই রাখা হয়।

Advertisement

কিন্তু মার্চ মাসে গরম বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে পুলিশ ট্যাঙ্কারগুলির দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযোগ, সেখান থেকেই ট্যাঙ্কারগুলি শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যায় রায়পুরের এক এলপিজি সরবরাহকারী সংস্থার মালিকের হেফাজতে।

তদন্তে উঠে এসেছে, ট্যাঙ্কারগুলি হস্তান্তরের আগে সেগুলির ভিতরে কতটা গ্যাস ছিল তার ওজন পরীক্ষা করা হয়নি। পুলিশের দাবি, ৩০ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে ট্যাঙ্কারগুলি থেকে গ্যাস চুরি করা হয়। পরে ৬ থেকে ৮ এপ্রিলের মধ্যে ট্যাঙ্কারগুলিকে ওজন পরীক্ষার জন্য খাদ্য দপ্তরের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।

চুরির বিষয়টি প্রথম সামনে আসে যখন ট্যাঙ্কারগুলির মূল পরিবহণকারীরা ট্রাক ফেরত নিতে থানায় যান। তখনই গ্যাসের পরিমাণে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপর তদন্তকারীরা ট্যাঙ্কারগুলির জিপিএস তথ্য খতিয়ে দেখেন। তাতে দেখা যায়, ট্যাঙ্কারগুলি রায়পুরের উরলা এলাকার একটি গ্যাস প্ল্যান্টে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত সংস্থার বিক্রয় নথি পরীক্ষা করে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে তারা মাত্র ৪৭ টন এলপিজি কিনেছিল এবং আগে কোনও মজুতও ছিল না। অথচ সেই সময়েই প্রায় ১০৭ টন গ্যাস বিক্রি করা হয়েছে। এই তথ্য থেকেই তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়।

মহাসমুন্দের পুলিশ সুপার প্রভাত কুমার জানিয়েছেন, এই ঘটনায় খাদ্য দপ্তরের আধিকারিক অজয় যাদব, গ্যাস ডিলার পঙ্কজ চন্দ্রকর, তাঁদের সহযোগী মনীশ চৌধুরী এবং গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার মালিক সন্তোষ ঠাকুরের নাম সামনে এসেছে। এখনও পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজ চলছে।

তদন্তকারীদের অনুমান, চুরি করা এলপিজি রাজ্যের বিভিন্ন গ্যাস এজেন্সির মাধ্যমে কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছিল। অন্তত আটটি গ্যাস এজেন্সির ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তরা প্রথমে দাবি করেছিল, ট্যাঙ্কার থেকে গ্যাস ‘লিক’ হয়ে গিয়েছে। তবে কারিগরি পরীক্ষায় সেই দাবি খারিজ হয়ে যায়।এই ঘটনায় প্রশাসনিক গাফিলতির পাশাপাশি সরকারি ব্যবস্থার ভিতরে দুর্নীতি এবং জ্বালানি পাচার চক্রের সক্রিয় উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Advertisement