পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত এক্সিট পোল প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিখ্যাত সমীক্ষা সংস্থা অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া। সংস্থার প্রধান প্রদীপ গুপ্তা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য না পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা প্রদীপ গুপ্ত বলেন, ভোটাররা তাঁদের সমীক্ষায় সাড়া দিচ্ছেন না। প্রদীপ গুপ্তার মতে, পশ্চিমবঙ্গে সমীক্ষার সময় দেখা গিয়েছে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ভোটার নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে চাননি। ফলে সমীক্ষার যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তা আংশিক, সামগ্রিক প্রতিনিধিত্বমূলক নয়। তাই ভুল বা বিভ্রান্তিকর ফল প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সমীক্ষা সংস্থাটি।
প্রদীপ গুপ্ত জানান, অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার পদ্ধতি হলো সরাসরি মানুষের সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলে তারপর সমীক্ষা করা। কিন্তু বাংলায় নির্বাচনের পরেও ভোটারদের একটা বড় অংশ নীরব রয়েছেন। ফলে সঠিক অনুমান করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ‘অনুমান করে সমীক্ষা করা সঠিক বলে আমরা মনে করি না। সেজন্য আমরা বৃহস্পতিবার আবারও চেষ্টা করব। হয়তো এখন নির্বাচন হয়ে যাওয়ায় মানুষ আরও স্বস্তিতে থাকবে।’
অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া জানিয়েছে, মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ মতামতের ভিত্তিতে কোনো ফলাফল প্রকাশ করলে তাতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তাই অনুমানের উপর নির্ভর না করে ফল প্রকাশ থেকে বিরত থাকাই যুক্তিযুক্ত মনে করেছে। প্রদীপ গুপ্ত বলেন, ‘আমার কোনো মতামত নেই, কারণ যখন কেউ কথা বলে না, তখন আমার কথা বলার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।’ তিনি বলেন, ‘নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। আমরা এতগুলো দিন ধরে চেষ্টা করেছি এবং কঠোর পরিশ্রম করেছি, দীর্ঘ সময় ধরে ঘাম ঝরিয়ে আসছি। এত প্রচেষ্টা এবং ঘাম ঝরানোর পর যদি আমরা সঠিক পূর্বাভাস দিতে না পারি তবে তা আমাদের কাছেও হতাশার বিষয় হবে।’
এই নির্বাচন নিয়ে অন্যান্য এক্সিট পোল সংস্থাগুলির ফলাফলে কিছু সংস্থা বিজেপিকে এগিয়ে রেখেছে, আবার কিছু সংস্থা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস মিলেছে। এর মধ্যেই অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার মতো একটি বড় সংস্থার এক্সিট পোল প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের একটি বড় অংশ সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের মতামত প্রকাশে অনিচ্ছুক থাকেন। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় অনেকে সমীক্ষক সংস্থার সঙ্গে কথা বলতে চান না। এছাড়া রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ, দলীয় প্রতিযোগিতা এবং ভোটারদের সতর্ক মনোভাব—সব মিলিয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে পড়ে।
অতীতেও দেখা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে এক্সিট পোলের ফল অনেক সময় প্রকৃত নির্বাচনী ফলের সঙ্গে মেলেনি। তাই এবার আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে সংস্থাটি। এখন সকলের নজর রয়েছে আসন্ন ভোট গণনার দিকে। ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। প্রকৃত ফলাফলই শেষ পর্যন্ত জানাবে রাজ্যের ক্ষমতার রূপরেখা কোন দিকে যাচ্ছে।
Advertisement