হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলা টানাপোড়েনের মধ্যেই আরও এক গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা এবার নজর দিয়েছে বাব আল-মান্দেব প্রণালীর দিকে। এই প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে।
হুথি প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, আমেরিকা এবং ইজরায়েল যদি তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে সরে না আসে, তা হলে বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা সহজে পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে না।
Advertisement
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে ইতিমধ্যেই সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি পরিবহণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তার মধ্যেই বাব আল-মান্দেব প্রণালী ঘিরে এই নতুন হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কারণ, এই জলপথ লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করিডর হিসেবে পরিচিত।
Advertisement
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল এই পথ দিয়ে পরিবহণ হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি বড় অংশও এই রুটের উপর নির্ভরশীল। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ব বাজারে তেলের দামে বড়সড় অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
ভারতের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, ভারত-ইউরোপ বাণিজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই জলপথের উপর নির্ভরশীল। ফলে এই প্রণালী বন্ধ হলে আমদানি ও রপ্তানি কার্যত ব্যাহত হতে পারে।
এদিকে হরমুজ প্রণালী নিয়েও অচলাবস্থা এখনও কাটেনি। ইরান-আমেরিকার সংঘাতের জেরে এই জলপথে আগেই কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল। পরে কিছুটা ছাড় দেওয়া হলেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব— দুই গুরুত্বপূর্ণ জলপথেই অস্থিরতা বজায় থাকে, তা হলে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সঙ্কট আরও তীব্র আকার নিতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এবং বাণিজ্যে তার বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
Advertisement



