• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 15 June, 2026

অনন্যার ওয়ার্ড অফিস থেকে মিলল ত্রাণের পাহাড়, কন্ডোম ও তোলাবাজির হিসাব

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, চাকরি, জমি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধার আশ্বাস দিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে।

রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা থেকে কাউন্সিলরদের ডেরা থেকে মিলছে বিপুল পরিমাণ ত্রাণের সামগ্রী। ওয়ার্ড অফিস থেকে শুরু করে ক্লাব, গ্যারেজ সর্বত্র তল্লাশি চালাতেই মিলছে ত্রাণ সামগ্রী। কিন্তু এবার মহিলা কাউন্সিলরের ওয়ার্ড অফিস থেকে কন্ডোম মিলেছে! শুনতে অবাক লাগলেও বাস্তবে এমন ঘটনাই ঘটেছে। যা দেখে হতবাক সাধারণ মানুষ। এখানেই শেষ নয়, ত্রাণ সামগ্রীর পাহাড় থেকে শুরু করে তোলাবাজির হিসাবের খাতাও মিলেছে।

এদিকে কলকাতা পুরসভার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার তিনি মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। আর তখনই মুকুন্দপুরে অনন্যার অফিস থেকে মিলল তোলাবাজির হিসাবের তালিকা। সেখানে লেখা একের পর এক ক্লায়েন্টের নাম। প্রোমোটারের থেকে কত টাকা নিতেন, চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে কত টাকা নিয়েছেন সব লেখা রয়েছে। সেখানে নাম-ঠিকানা দিয়ে লেখা রয়েছে সবকিছু ডায়েরিতে। এমনকী বেসরকারি হাসপাতাল থেকেও টাকা তুলতেন অনন্যা বলে উঠেছে অভিযোগ। ওই ওয়ার্ড অফিসে ঢুকে চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড়। একতলায় এসব মিলেছে। আর দোতলায় উঠতেই ঝাঁ চকচকে ঘর। সেখান তেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ কন্ডোমের প্যাকেট, গর্ভনিরোধক এবং পাঞ্জাবি।

অন্যদিকে মুকুন্দপুরের ওই অফিস থেকে পাওয়া নথিগুলি সামনে আসতেই নানা অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। কিন্তু একজন মহিলা কাউন্সিলরের অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ কন্ডোম মেলায় মুখ খুলতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলার অভিযোগ উঠছিল ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের সেলেব কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, চাকরি, জমি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধার আশ্বাস দিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। জমির দলিল অথবা সম্পত্তি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিও সংগ্রহ করা হয়েছিল। স্থানীয় একাধিক প্রোমোটারের কাছ থেকে ১০ লক্ষ, ১২-১৫ লক্ষ টাকা করে তোলা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

তাছাড়া ওই অফিস থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রচুর ধুতি, পাঞ্জাবি, শাড়ি এবং অন্যান্য পোশাক। তার সঙ্গে কাগজপত্র ও খাতাও মিলেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা একটি রেট চার্ট দেখিয়ে বলেন, ‘এই এলাকার প্রত্যেকটি বিল্ডিং পিছু টাকা তোলা হয়েছে। ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছে।’ আর এক বাসিন্দা বললেন, ‘এত কন্ডোম। কাউন্সিলরের অফিসে এসব থাকবে কেন?’ এই বিষয়ে বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, ‘এটাই তৃণমূলের পরম্পরা। যাঁরা লুঠে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদেরই বড় বন্দোবস্ত করে দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। মানুষকে কীভাবে লুঠ করা হয়েছে, এই বৈভব দেখলেই বোঝা যায়।’ তবে পাল্টা অনন্যার সাফাই, ‘কলকাতা পুরসভার অফিস, সেখানে অফিসিয়ালি যা করার করবে। অফিসের যা কাজ হতো সেসব দেখতে পাওয়া যাবে। ফাইলপত্র দেখতে পারে। বর্ষা আসছে বলেই ত্রাণের সামগ্রী আছে। ইদ গিয়েছে। তাই জামাকাপড়ও থাকবে।’