• facebook
  • twitter
Sunday, 3 May, 2026

আমেরিকার কাছে ‘আগ্রাসন’ বন্ধের নিশ্চয়তা চাইছে ইরান, হরমুজ নিয়ে নতুন কৌশল

আমেরিকার কাছে অ-আগ্রাসনের নিশ্চয়তা চাইল ইরান। হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন কৌশল প্রস্তাব, উত্তেজনা বাড়ছে পশ্চিম এশিয়ায়।

আমেরিকার সঙ্গে উত্তেজনার আবহে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কোনও সামরিক আগ্রাসন হবে না— এমন নিশ্চয়তা এবং আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারই তাদের মূল দাবি।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-এর দেওয়া নয় দফা প্রস্তাবের জবাবে ইরান নিজেদের ১৪ দফা পাল্টা প্রস্তাব পাঠিয়েছে। সেখানে ‘যুদ্ধবিরতি’ নয়, বরং সরাসরি ‘যুদ্ধের অবসান’-এর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

আমেরিকার প্রস্তাবে দুই মাসের যুদ্ধবিরতির কথা বলা হলেও, ইরান জানিয়েছে ৩০ দিনের মধ্যেই সব সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। পাশাপাশি তারা নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং বিদেশে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করার দাবিও তুলেছে।

Advertisement

এই প্রস্তাবে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে হরমুজ প্রণালী। ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের জন্য নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের দাবি, এই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজের ওপর আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে অনুমতি নিয়ে চলাচল করতে হবে।

ইরানের সংসদের উপ-স্পিকার আলি নিকজাদ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটি নতুন আইন তৈরি হচ্ছে। সেই আইনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজকে এই পথ ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না এবং যুদ্ধরত দেশগুলিকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এই নতুন নীতি আন্তর্জাতিক আইন মেনে তৈরি করা হলেও, ইরান তার নিজস্ব অধিকারে কোনও আপস করবে না। তাঁর কথায়, ‘এই পরিবর্তন আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরানো মুহূর্ত।’

অন্যদিকে, ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস-ও কড়া বার্তা দিয়েছে। তাদের মতে, আমেরিকার সামনে এখন দুটি পথ— কঠিন সামরিক পদক্ষেপ অথবা ইরানের সঙ্গে সমঝোতা।

বর্তমানে আমেরিকার প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, এই প্রস্তাব আদান-প্রদানের ওপর নির্ভর করেই পশ্চিম এশিয়ার ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ধারিত হবে।

Advertisement