ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর প্রয়াণের পর গোটা বিশ্ব তাঁর রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তাঁর মৃত্যুর কয়েক মাস পর অনুষ্ঠিত হতে চলা এই রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। ভারতের পক্ষ থেকেও রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সরকারি স্তরের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি ইরান যাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিহারের রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইন, কেন্দ্রীয় বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা, কংগ্রেস নেতা সলমান খুরশিদ, পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি এবং জৈন মুনি আচার্য লোকেশ-সহ আরও বেশ কয়েকজন ভারতীয় প্রতিনিধি।
ইরানের তরফে বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুক্তার আব্বাস নকভিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে এখনও নিশ্চিত নয়, তিনি এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইরান যাবেন কি না। ভারত জানিয়েছে, ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর অন্তিম বিদায় অনুষ্ঠানে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিহারের রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং কেন্দ্রীয় বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাঁরা ৩ জুলাই ইরান সফরে যাচ্ছেন।
জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) সভাপতি মেহবুবা মুফতি এবং কংগ্রেস নেতা সলমান খুরশিদ বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ইরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সেখানে তাঁরা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেবেন। সলমান খুরশিদ বলেন, ‘আমি দলের প্রতিনিধিত্ব করছি এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছি।’
এছাড়াও ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) সাংসদ ও শিয়া ধর্মগুরু আগা সইয়েদ রুহুল্লাহ, জেএন্ডকে পিপলস কনফারেন্সের নেতা ও শিয়া ধর্মগুরু ইমরান আনসারি, শিয়া ধর্মগুরু আগা সাইয়েদ মোহাম্মদ হাদি, মাসরুর আব্বাস আনসারি, আগা সইয়েদ হাসান মোসভি আল সাফভি এবং জৈন মুনি ও আধ্যাত্মিক গুরু আচার্য লোকেশ মুনিও খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য ইরান যাচ্ছেন।
ইরানে ৩৬ বছর শাসন করা আলী খামেনেই ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছিলেন। তিনি আমেরিকার কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তেহরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে খামেনেইর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। যুদ্ধবিরতির পর এবার তাঁর দাফনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। ৪ জুলাই তেহরানে তাঁর রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে। পরে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে, তাঁর জন্মস্থানে, তাঁকে দাফন করা হবে।




