কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গে ডিএ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার সোনারপুরে এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, রাজ্যের বাজেটে ঘোষিত অতিরিক্ত ৪ শতাংশ ডিএ খুব শীঘ্রই কার্যকর করা হবে। তাঁর এই মন্তব্যের পর প্রশাসনিক মহলে তৎপরতা বেড়েছে বলে জানা গেছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ্যের অর্থ দফতর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে। অন্তর্বর্তী বাজেটে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছিল। এই বৃদ্ধি কার্যকর হলে রাজ্য কর্মচারীরা মোট ২২ শতাংশ হারে ডিএ পাবেন।
Advertisement
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ডিএ ইতিমধ্যেই ৫৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৬ সালের জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। ফলে কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র মধ্যে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ শতাংশে। এই বৈষম্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে রাজ্যের কর্মচারীদের মধ্যে।
Advertisement
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের বকেয়া ডিএ পরিশোধের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে রাজ্য সরকার। বিভিন্ন দফতর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের এই বকেয়া দ্রুত মেটানোর চেষ্টা চলছে।
একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্তরেও নতুন করে দাবি উঠেছে অষ্টম পে কমিশন গঠনের। কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি, এই কমিশন কার্যকর হলে ন্যূনতম বেতন ১৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৬৯ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে রাজ্যের কর্মচারীদের প্রধান প্রশ্ন— ঘোষিত ডিএ কবে থেকে কার্যকর হবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংগঠন দ্রুত স্পষ্ট সিদ্ধান্তের দাবি জানিয়েছে। এখন সবার নজর নবান্নের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির দিকে, সেখানেই মিলবে চূড়ান্ত উত্তর।
Advertisement



