• facebook
  • twitter
Thursday, 9 April, 2026

মার্লিন গ্রুপে ইডির ‘সাঁড়াশি’ হানা: শহরের ৭ জায়গায় ম্যারাথন তল্লাশি

বুধবার সকাল থেকেই তিলজলা ও আনন্দপুরসহ কলকাতার মোট ৭টি জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী আধিকারিকরা

শহর কলকাতার নামী আবাসন নির্মাতা সংস্থা ‘মার্লিন গ্রুপ’-এর ওপর সাঁড়াশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বুধবার সকাল থেকেই তিলজলা ও আনন্দপুরসহ কলকাতার মোট ৭টি জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী আধিকারিকরা।কলকাতার অন্যতম নামী রিয়েল এস্টেট সংস্থা ‘মার্লিন গ্রুপ’-এর ওপর অতর্কিত হানা দিলেন ইডি আধিকারিকরা।

সংস্থার প্রমোটর সুশীল মোহতা ও সাকেত মোহতার বাসভবনে তল্লাশি চালানো হয়। পাশাপাশি প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডে মার্লিন গ্রুপের প্রধান কার্যালয় এবং সল্টলেক ও বাগুইআটিসহ ওই গোষ্ঠীর বিভিন্ন ডিরেক্টরের বাড়ি-সহ মোট সাতটি ঠিকানায় একযোগে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। কেন্দ্রীয় সংস্থা সূত্রে খবর, এবারের অভিযানের মূলে রয়েছে জমি জালিয়াতি ও কয়েকশো কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের বিস্ফোরক অভিযোগ।

Advertisement

তদন্তকারীদের দাবি, গত কয়েক বছরে এই সংস্থার প্রমোটররা জাল নথি তৈরি করে জমির মালিকানার এক কাল্পনিক ‘চেইন’ বানিয়ে ফেলেছিলেন, যার মাধ্যমে একের পর এক সরকারি ও ব্যক্তিগত জমি বেআইনিভাবে নিজেদের দখলে আনেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, এই ‘চোরাই’ জমিতেই বিশাল সব আবাসন ও বাণিজ্যিক প্রকল্পের নীল নকশা সাজিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

Advertisement

অভিযোগ উঠেছে, নিজেদের ওই সমস্ত জমির প্রকৃত মালিক হিসেবে সাজিয়ে মোটা অঙ্কের রিটার্নের টোপ দিয়ে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন অভিযুক্তরা। বুধবারের এই তল্লাশিতে কেবল নথিপত্রই নয়, আধিকারিকদের নজরে রয়েছে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের উৎস। এদিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধারের খবর সামনে আসে।

ইডি আধিকারিকরা খতিয়ে দেখছেন যে, এই জালিয়াতির জাল আদতে কতটা গভীরে বিস্তৃত এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কার কার যোগ রয়েছে। তদন্তের এই ঝোড়ো গতিতে আপাতত থমথমে কলকাতার রিয়েল এস্টেট বাজার, আর দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে হাজার হাজার আমানতকারীর কপালে।

Advertisement