মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক বৈঠক করেন। বৈঠকে যোগ দেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বৈঠকে যোগ দিতেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। এপিজে আব্দুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে উত্তর চব্বিশ পরগনা, নদিয়া ও হুগলি জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে এই বৈঠক হয়। আমন্ত্রিত ছিলেন ওই তিন জেলার বিধায়ক-সাংসদেরা। উপস্থিত ছিলেন দেগঙ্গার সদ্য নির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক আনিসুর রহমান বিদেশ, স্বরূপনগরের বীণা মণ্ডল এবং হাড়োয়ার আব্দুল মতি।
নদিয়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয় বলে খবর। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক, পুলিশ আধিকারিক, আমলা এবং জনপ্রতিনিধিরা। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের পর থেকেই কাকলি ঘোষ দস্তিদার প্রকাশ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিলেন। তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই প্যাকের ভূমিকা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছিলেন। পরে তিনি বারাসত সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফা দেন। যার ফলে দলে ভিতরে দ্বন্দ্ব নিয়ে জল্পনা আরও বাড়ে।
Advertisement
নির্বাচনের পর দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। তবে অনেকেই একে রাজনৈতিক সংস্কৃতির বদল হিসেবেও দেখছেন। আগে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের দেখা যেত না। বিজেপির দাবি, তাদের বিধায়কদের ডাকাই হত না। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন সমস্ত বৈঠকে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের বৈঠকে ডাকা হবে। বিজেপি সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেই কাকলি-সহ তৃণমূলের প্রতিনিধিদের ডাকা হয়েছে। এখানে কোনও রাজনীতি নেই বলে জানানো হয়েছে।
Advertisement
গত সভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে দলের চিফ হুইপ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একই সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাঁর নিরাপত্তায় ওয়াই ক্যাটেগরির ব্যবস্থা করা হয়। এই সব ঘটনার জেরে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে, কাকলি ঘোষ দস্তিদার বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন। যদিও এ নিয়ে সাংসদ এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেননি। বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, ‘এটি জেলার প্রশাসনিক বৈঠক। প্রশাসন সবার জন্য। এটি কোনও রাজনৈতিক দলের বৈঠক নয়।‘ মঙ্গলবারের এই বৈঠকে বর্ষা মোকাবিলা, নাগরিক পরিকাঠামো, জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় নিয়েও আলোচনা হয়।
Advertisement



