ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী কাউন্সিল খামেনির দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
গত শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় খামেনি নিহত হন বলে জানানো হয়েছে। সেই ঘটনার পর থেকেই কে হবেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা, তা নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। প্রথমে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী কাউন্সিল গঠন করা হয়, যাদের হাতে অস্থায়ীভাবে শাসনভার দেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আলিরেজা আরাফির নামও ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মোজতবা খামেনিকে চূড়ান্তভাবে উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি।
Advertisement
ইরান ইন্টারন্যাশনাল সূত্রে জানা গেছে, ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’ নামে পরিচিত কাউন্সিল মোজতবার নাম অনুমোদন করেছে। ৫৬ বছর বয়সি মোজতবা দীর্ঘদিন ধরেই দেশের প্রভাবশালী মহলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর উপর তাঁর প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন শিয়া ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সরকার ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তাঁর প্রভাব খামেনির পরেই বলে অনেকের ধারণা।
Advertisement
তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইরানের অন্দরে মতভেদ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ইসলামিক রিপাবলিক দীর্ঘদিন পরিবারতন্ত্রের বিরোধিতা করলেও আইআরজিসির চাপে মোজতবার হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ। যদিও এই দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণ দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় সর্বোচ্চ নেতার পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সামরিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁর হাতেই থাকে। তাই নতুন নেতা নির্বাচনকে ঘিরে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
Advertisement



