হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন জলসীমায় উত্তেজনার আবহে ভারতমুখী এক বাণিজ্যিক জাহাজ আটক হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়েছে। জাহাজে থাকা এক ভারতীয় নাবিক পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়েছেন, ইরানের দিক থেকে আচমকা গুলির ঝাঁক ছুটে এসেছিল। প্রাণ বাঁচাতে জাহাজের কর্মীরা দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান। আপাতত সকলেই নিরাপদে রয়েছেন বলেই জানা গিয়েছে।
৩৮ বছর বয়সী সঞ্জয় মাহার, রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরের বাসিন্দা, ওই জাহাজের অন্যতম কর্মী। তাঁর পরিবার প্রথমে সংবাদমাধ্যমে জাহাজ আটকের খবর জানতে পারে। পরে সঞ্জয় নিজে ফোন করে তাঁদের আশ্বস্ত করেন। তাঁর বাবা ওমপ্রকাশ মাহার জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় আচমকা গুলি ছুটে আসে। পরিস্থিতি বুঝে জাহাজের সবাই দ্রুত ভিতরে গিয়ে সুরক্ষিত স্থানে আশ্রয় নেন।
Advertisement
আটক হওয়া জাহাজটির নাম ‘এপামিনোনডেস’। এটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজ, যার গন্তব্য ছিল গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দর। জানা গিয়েছে, পারাপারের অনুমতির অপেক্ষায় জাহাজটি কয়েকদিন ধরে হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থান করছিল। এরপর যাত্রা শুরু করতেই ইরানের বাহিনী সেটিকে থামিয়ে দেয়।
Advertisement
জাহাজে মোট ২১ জন নাবিক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ভারতীয় ছাড়াও ফিলিপিনস, ইউক্রেন এবং শ্রীলঙ্কার নাগরিক আছেন। সঞ্জয় প্রায় ১৫ বছর ধরে মার্চেন্ট নেভিতে কর্মরত এবং সম্প্রতি কাজের সূত্রে পশ্চিম এশিয়ার দিকে রওনা দিয়েছিলেন।
ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোরের দাবি, জাহাজটি অনুমতি ছাড়াই ওই জলপথ দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল, তাই সেটিকে আটক করা হয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, ইরানের সশস্ত্র নৌকা থেকে গুলি চালানো হয় এবং রকেট নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে। তবে এই অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি ইরান।
এই ঘটনায় উদ্বেগে রয়েছে সঞ্জয়ের পরিবার। তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, জাহাজে থাকা ভারতীয়দের দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হিসেবে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম। সেখানে এই ধরনের উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সেই অস্থিরতার মধ্যেই আটকে পড়া নাবিকদের পরিবার এখন অপেক্ষায়—কবে নিরাপদে ফিরবেন তাঁদের প্রিয়জনেরা।
Advertisement



