কেবল সময়ের অপেক্ষা। ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বোঝাপড়া প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে তিনি জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইউরোপের কোনও একটি দেশে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। ট্রাম্পের দাবি, সম্ভাব্য এই সমঝোতার বিষয়ে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব অবগত রয়েছে এবং আলোচনা ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি খসড়া সমঝোতা তৈরি হয়েছে। এই সমঝোতায় মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রয়েছে, যা কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার অবসান ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সমঝোতার প্রথম শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে ইরানকে। বিশ্বের তেল পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রে রয়েছে। এর বিনিময়ে আমেরিকাও নিজেদের অবরোধমূলক পদক্ষেপ শিথিল করবে বলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, ইরানের উপর দীর্ঘদিন ধরে জারি থাকা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে তুলে নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে তেল রফতানি সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে ইরানের অর্থনীতিতে বড় স্বস্তি ফিরতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটির অর্থনীতি চাপে রয়েছে।
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি। বর্তমানে কার্যকর যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সময়সীমা বৃদ্ধি পেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি হবে এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও বাড়বে।
চতুর্থত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। আমেরিকা ও ইজরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পরমাণু কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। সেই কারণেই সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পরমাণু আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানো নিয়েও আলোচনা চলছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের সংলগ্ন অঞ্চল থেকে আমেরিকা সেনা না সরালে তারা দীর্ঘমেয়াদি কোনও রাজনৈতিক সমঝোতায় রাজি হবে না। ফলে সম্ভাব্য চুক্তিতে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে শুধু আমেরিকা-ইরান সম্পর্কেই নয়, গোটা পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপরও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।




