দিল্লির বিবেক বিহারের চারতলা আবাসিক ভবনে আগুন লেগে মৃত কমপক্ষে নয়। রবিবার ভোরে চারতলার ওই বহুতলে ভয়াবহ আগুন লাগে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ভবনের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।
সূত্রের খবর, বহুতলটিতে ইমার্জেন্সি গেট ছিল না। এমনকী ছাদের দরজা তালাবন্ধ ছিল। তাই আবাসিকরা ভিতরেই আটকে পড়েন। আবাসনের একপাশে লোহার গ্রিল এবং সিঁড়ির দরজায় তালা লাগানো ছিল। ফলে পালানোর সব পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যার জেরেই ধোঁয়া এবং আগুনের তাপে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বেশিরভাগ জনের। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারী দল এমনটাই মনে করছেন।
Advertisement
ভোর প্রায় ৪টার সময় দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা উপরের তলাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের দাপটে বহু বাসিন্দা নিজেদের ফ্ল্যাটেই আটকে পড়েন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন অরবিন্দ জৈন, তাঁর স্ত্রী অনিতা, তাঁদের ছেলে নিশান্ত, পুত্রবধূ আঁচল এবং তাঁদের দেড় বছরের শিশু সন্তান আকাশ। এছাড়া দ্বিতীয় তলা থেকে শিখা জৈনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চতুর্থ তলা থেকে উদ্ধার হয়েছে নিতিন জৈন, তাঁর স্ত্রী শৈলী এবং তাঁদের পুত্র সাম্যকের দেহ।
Advertisement
দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ২০ জন বাসিন্দাকে উদ্ধার করে। মই ব্যবহার করে ব্যালকনি থেকে তাঁদের নামানো হয়। ভবনে মোট আটটি ফ্ল্যাট ছিল। জানা গিয়েছে, পিছনের দিকের ফ্ল্যাটগুলির বাসিন্দারা বেরোতে পারেননি, কিন্তু সামনের দিকের বাসিন্দাদের বেশিরভাগকেই নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, একটি এসির বিস্ফোরণ থেকে এই ভয়াবহ অগুন লাগে আবাসনে। অভিযোগ, চারতলা ওই আবাসন ও পাশের একটি বাড়ির মাঝে কোনও ফাঁক ছিল না। যার জেরে পাশের বাড়িতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আবাসনের ভিতর থেকে আবাসিকদের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছিল। এমনকী প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন শিশুকে আবাসনের সামনের দিক থেকে নিচে ঝাঁপ দিতেও দেখা গিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সময়মতো সতর্ক করা হলে হয়তো প্রাণহানি এড়ানো যেত। অনেকেই তখন গভীর ঘুমে ছিলেন, ফলে আগুন টের পাননি। দমকলকর্মীরা প্রতিটি ঘরে তল্লাশি চালিয়ে দেখেন, উদ্ধার হওয়া দেহগুলির অনেকই এতটাই পুড়ে গিয়েছে যে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যায়।
Advertisement



