দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং এলাকায় ফের গলাকাটা অবস্থায় এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ক্যানিং থানার অধীন সাতমুখী সংলগ্ন বাবলাতলা–গাজীপাড়া রাস্তায় শুক্রবার ভোরে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম রক্তাক্ত অবস্থায় ওই দেহটি দেখতে পান। খবর পেয়ে এলাকায় দ্রুত ছুটে আসে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোরবেলা কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার ধারে রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেন। কাছে গিয়ে তাঁরা বুঝতে পারেন, ওই যুবকের গলা কাটা এবং চারপাশে রক্ত ছড়িয়ে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় সাতমুখী পুলিশ ফাঁড়িতে। এরপর ক্যানিং থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়।
Advertisement
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালে আনার আগেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃত যুবকের বয়স আনুমানিক ৪০ বছর বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। মৃতের পরিচয় জানার জন্য আশপাশের বিভিন্ন থানায় ইতিমধ্যেই বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Advertisement
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ওই যুবককে ঘটনাস্থলেই খুন করা হয়েছে, নাকি অন্য কোথাও খুন করে দেহ এনে এখানে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু হয়েছে। রাস্তার ধারে রক্তের দাগ এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ঘটনাস্থলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং সময় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁদের অভিযোগ, দিনের বেলায় কিছুটা যাতায়াত থাকলেও সন্ধ্যার পর বাবলাতলা–গাজীপাড়া রাস্তাটি প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে দুষ্কৃতীরা ওই এলাকায় অবাধে আনাগোনা করে। এলাকার নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, প্রায় তিন বছর আগে একই এলাকায় এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তকারীদের মতে, সমস্ত সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং খুব দ্রুত মৃতের পরিচয় ও খুনের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে ঘটনার তদন্ত জোরকদমে চলছে এবং দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করতে আশপাশের এলাকার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
Advertisement



