চণ্ডীতলা ব্লকের মশাট এলাকার এক গৃহবধূকে কলকাতার বড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু। অভিযোগ, তাঁকে সরাসরি পরীক্ষা না করেই হুগলি থেকে হোয়াটসঅ্যাপ মারফত মৃত্যু সনদ পাঠিয়ে দিয়েছেন এক চিকিৎসক। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার পরিবারের সদস্যরা ওই চিকিৎসক, একটি বেসরকারি নার্সিংহোম এবং মৃতার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পেয়ে ইতিমধ্যেই চিকিৎসকের পাঠানো ডেথ সার্টিফিকেট বাতিল করে দিয়েছে তারকেশ্বর থানার পুলিশ। সেই সঙ্গে মৃত গৃহবধূর দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, মৃত গৃহবধূর নাম পৌলমী চক্রবর্তী। তাঁর বয়স চব্বিশ বছর। তাঁর বাপের বাড়ি হরিপাল থানার জেজুর গ্রামে। প্রায় পাঁচ বছর আগে চণ্ডীতলা ব্লকের মশাট এলাকার বাসিন্দা শুভাশিস চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের দুই বছরের একটি সন্তানও রয়েছে। তবে সন্তানের জন্মের পর থেকে জেজুর গ্রামেই বাপের বাড়িতে থাকতেন পৌলমী।
Advertisement
মৃতার দাদা সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায় জানান, ৫ মার্চ শারীরিক অসুস্থতার কারণে তারকেশ্বর থানার লোকনাথ এলাকার একটি বেসরকারি বহু-বিভাগীয় হাসপাতালে পৌলমীকে ভর্তি করেন তাঁর স্বামী শুভাশিস। পরের দিন অর্থাৎ ৬ মার্চ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তখন উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
Advertisement
পরিবারের দাবি, ৬ মার্চ রাতে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়েই শুভাশিস আত্মীয়দের জানান যে, হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে পৌলমীর মৃত্যু হয়েছে। এরপর হাওড়া থেকে তাঁর দেহ নিয়ে আসা হয় হরিপাল হাসপাতালে। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, হরিপাল হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শুভাশিসের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ মারফত একটি ডেথ সার্টিফিকেট পাঠিয়ে দেন চিকিৎসক ত্রিদিব প্রতিহার। অভিযোগ, তিনি সরাসরি রোগীকে না দেখেই এই মৃত্যু সনদ পাঠিয়েছেন। তাই মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্তের দাবি তোলা হয়েছে। সেই অনুযায়ী পৌলমীর দেহ হরিপাল সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে আগে থেকেই মৃত্যু সনদ দেওয়া হয়েছে শুনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেহ গ্রহণ করতে অস্বীকার করে বলে পরিবারের অভিযোগ।
এই ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার লোকনাথ এলাকার ওই বেসরকারি নার্সিংহোমের সামনে মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ দেখান পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। কয়েক ঘণ্টা উত্তেজনার পর তারকেশ্বর থানার পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, ওই নার্সিংহোম, চিকিৎসক ত্রিদিব প্রতিহার এবং স্বামী শুভাশিসের যোগসাজসের মধ্যেই এই মৃত্যুর আসল কারণ লুকিয়ে রয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, নার্সিংহোমের ম্যানেজার সমীরণ পাল জানিয়েছেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।’ এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযোগ গ্রহণ করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
Advertisement



