• facebook
  • twitter
Friday, 27 February, 2026

আসামে নেহরুর মূর্তি ভাঙচুর, হিমন্ত ঘনিষ্ঠ বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ

দলের নেতারা দাবি করেছেন, মতাদর্শের ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম স্থপতির স্মারক ধ্বংস করা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।

আসামের কাছাড় জেলায় দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্মীপুর থানার পাইলাপুল বাজার এলাকায় স্থাপিত নেহরুর মূর্তিটি ভেঙে দেয়। বরাক উপত্যকার কাছাড় জেলায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে। এই ঘটনাকে শুধুমাত্র ভাঙচুর নয়, ঐতিহাসিক স্মৃতি মুছে দেওয়ার বিপজ্জনক প্রবণতা হিসেবেই দেখছেন অনেকে।

মঙ্গলবার ভোরে কাছাড় জেলার পাইলাপুল এলাকায় নেহরু কলেজের সামনে স্থাপিত পূর্ণাবয়ব মূর্তিটিকে ভাঙা অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ২০০০ সালে স্থাপিত এই মূর্তিটি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে পরিচিত ছিল। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হয়, পুরনো কাঠামো হওয়ায় মূর্তিটি নিজে থেকেই ভেঙে পড়ে থাকতে পারে। কিন্তু পরে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অন্য ছবি সামনে আসে। ফুটেজে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে একদল দুষ্কৃতী বুলডোজার এনে মূর্তিটি গুঁড়িয়ে দেয়।
মূর্তি ভাঙার ঘটনার কথা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন শিলচরের কংগ্রেস নেতৃত্ব। কংগ্রেসের তরফে স্থানীয় থানায় অভিযোগও জানানো হয়। শিলচরের জেলা কংগ্রেস সভাপতি সজল আচার্যের দাবি, নির্বাচনের আগে জনগণের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করতেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছিল।

Advertisement

অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে দুষ্কৃতীরা নেহরুর মূর্তিটি ভেঙে দেয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, এই ভাঙচুর নিছক দুষ্কৃতীদের কাজ নয়, এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। দলের নেতারা দাবি করেছেন, মতাদর্শের ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম স্থপতির স্মারক ধ্বংস করা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।

Advertisement

মূর্তি ভাঙার ঘটনায় সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার ঘনিষ্ঠ এক বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। অভিযোগ সত্ত্বেও এই ঘটনায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়নি শাসক দল বিজেপি।

Advertisement