কয়েক ঘণ্টা আগেই শ্মশানে বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছেন। তার পরেই নির্ধারিত সময়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে পৌঁছে গেলেন ১৮ বছরের স্বস্তিক দাস। নদিয়ার হরিণঘাটার এক পরীক্ষাকেন্দ্রে শুক্রবার তাঁকে কুর্নিশ জানিয়েছেন অনেকেই।
হরিণঘাটা পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আনন্দপুরের বাসিন্দা স্বস্তিক আনন্দপুর হাই স্কুলের বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র। এ বছরই তাঁর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। বুধবার সন্ধ্যায় হঠাৎ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন তাঁর বাবা সুদীপ দাস। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। পরিবারের শোকের আবহের মধ্যেই শুক্রবার সাদা কাছা পরে পরীক্ষাকেন্দ্রে হাজির হন স্বস্তিক।
Advertisement
পরীক্ষাকেন্দ্রে তাঁকে দেখে সহপাঠীদের অনেকেই আবেগ চেপে রাখতে পারেননি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ছাত্রের মানসিক দৃঢ়তাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। পরীক্ষা শেষে স্বস্তিক জানান, পরিস্থিতি কঠিন হলেও তিনি প্রশ্নপত্র ভালোই লিখেছেন। স্বস্তিকের কথায়, ‘বাবা আর কোনওদিন ফিরে আসবেন না। কিন্তু তিনি সবসময় চাইতেন আমি যেন ভালো ফল করি, নিজের পায়ে দাঁড়াই। তাই বাবার স্বপ্ন পূরণ করতেই পরীক্ষায় বসেছি।’ গভীর শোকের মধ্যেও দায়িত্ববোধ আর লক্ষ্যে অটল থাকার এই মানসিক শক্তি অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। বাকি পরীক্ষাগুলিও সাধ্যমতো ভালোভাবে দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলেই জানিয়েছেন স্বস্তিক।
Advertisement
Advertisement



