• facebook
  • twitter
Tuesday, 10 February, 2026

বাংলাদেশের ভোট প্রচারে মাইকের দাপটে নাজেহাল মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা

এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তিনবিঘা করিডর দিয়ে দাড়ি পাল্লা চিহ্নে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়ে মিছিলের নামে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বাইক বাহিনী।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে রাজ্যজুড়ে মাইক ব্যবহারের উপরে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তাতে কাজ হচ্ছে না কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ সীমান্ত এলাকায়। উন্মুক্ত সীমান্তের ওপার থেকে ভেসে আসা বাংলাদেশের ভোট প্রচারের মাইকের আওয়াজে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সীমান্তবাসী। আর সবচেয়ে বড় সমস্যার মুখে পড়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা।

আর মাত্র দু’দিন পরেই বাংলাদেশে ভোট। সেই কারণে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে জোরদার প্রচার। কখনও বড় সভা, কখনও মিছিল, আবার কখনও সিএনজি অটোয় মাইক বেঁধে লাগাতার চিৎকার। সময়ের কোনও বালাই নেই। সীমান্ত ঘেঁষা হওয়ায় এই আওয়াজ স্পষ্টভাবে পৌঁছে যাচ্ছে মেখলিগঞ্জ ব্লকের গ্রামগুলিতে।

Advertisement

বাগডোগরা ফুলকাডাবরি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৯৪ নম্বর বুথ এলাকার দুই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী শিবা রায় ও মামনি রায় জানায়, ‘ওপারে মাইক বাজানোর কোনও সময়সীমা নেই। সকাল থেকে রাত এগারোটা–বারোটা পর্যন্ত তারস্বরে প্রচার চলছে। ও পারের গ্রামগুলো আমাদের খুব কাছেই। ফলে পড়াশোনা করাই দায় হয়ে পড়েছে।’

Advertisement

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য রঞ্জন রায় বলেন, ‘আমাদের গ্রামেই ১০ জন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী আছে। শুধু আমাদের গ্রাম নয়, সীমান্ত লাগোয়া একাধিক গ্রামের পড়ুয়ারা সমস্যায় পড়েছে। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষার আগে এমন চাপ থাকলে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক বাড়ে। তার উপর এই রকম মাইকের দাপট পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলছে।’

সোমবার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তিনবিঘা করিডর দিয়ে দাড়ি পাল্লা চিহ্নে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়ে মিছিলের নামে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বাইক বাহিনী। আঙ্গারপোতা দহগ্রাম থেকে তিনবিঘা করিডর পেরিয়ে পাটগ্রামের দিকে যাওয়ার সময় প্রচণ্ড শব্দে মাইক বাজানো হচ্ছিল, যা স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছিল ভারতীয় ভূখণ্ডের গ্রামগুলিতে।

এদিকে বাংলাদেশের ভোটকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বিএসএফ। বিএসএফের ১৭৪ নম্বর ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা গিয়েছে, টহলদারিতে জওয়ানের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং সীমান্তে বাড়তি নজরদারি চলছে। একই সঙ্গে পুলিশের তরফেও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকা এখনও কাঁটাতারহীন, সেই সব গ্রাম সংলগ্ন সীমান্তে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে।

Advertisement