• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 6 June, 2026

ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে বলেছিলেন কোচ: গম্ভীরের প্রশংসায় সাই সুদর্শন

ভারতের টেস্ট দলে পরিবর্তনের হাওয়ার মধ্যে তিন নম্বর পজিশনে সুদর্শনকে খেলানোর সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছিলেন গম্ভীর।

টেস্ট অভিষেকেই বড় ইনিংস। তাও আবার তিন নম্বরে নেমে দলের কঠিন পরিস্থিতি সামলে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেকের পর ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন তারকা সাই সুদর্শন জানালেন, তাঁর সাফল্যের পিছনে বড় ভূমিকা রয়েছে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের।
শনিবার নিউ চণ্ডীগড়ে টেস্টের প্রথম দিনের খেলার শেষে সুদর্শন বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার আগে থেকেই গম্ভীর তাঁকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন—নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে হবে, কোনও রকম ভয় বা চাপ নিয়ে মাঠে নামা চলবে না।

সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘গৌতিভাই আমাকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। উনি বলেছিলেন, নিজের খেলাটা খেলো, নিজেকে বদলানোর কোনও প্রয়োজন নেই। সেই কথাই আমার আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিল।‘
ভারতের টেস্ট দলে পরিবর্তনের হাওয়ার মধ্যে তিন নম্বর পজিশনে সুদর্শনকে খেলানোর সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছিলেন গম্ভীর। ম্যাচের আগেও কোচ জানিয়েছিলেন, এই তরুণ ব্যাটসম্যান দীর্ঘদিন ধরে সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন এবং তাঁর প্রতিভার উপর দলের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

সেই আস্থার প্রতিদান দিলেন সুদর্শন। প্রথম ইনিংসে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন তিনি। বিশেষ করে স্পিনারদের বিরুদ্ধে তাঁর ফুটওয়ার্ক এবং ইনিংস গড়ার ধৈর্য নির্বাচকদের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করেছে। ১৩টি বাউন্ডারি মেরে ১০৪ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

সুদর্শন আরও জানান, গম্ভীর শুধু তাঁকেই নন, পুরো দলকেই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলতে উৎসাহ দেন।‘উনি সবসময় বলেন, ক্রিকেট উপভোগ করতে হবে। ভুল হওয়ার ভয় নিয়ে খেললে নিজের সেরাটা বের করা যায় না। তাই মাঠে নেমে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আমরা পাই,’ বলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান।

নতুন অধিনায়ক শুভমান গিলের সঙ্গেও তাঁর বোঝাপড়া দারুণ ছিল বলে জানান সুদর্শন। এ দিন সাই, রাহুল ও শুভমানের ইনিংস ভারতের ইনিংসকে শক্ত ভিত তৈরি করে দেয় এবং আফগানিস্তানের উপর চাপ তৈরি করে।
গম্ভীর কোচ হওয়ার পর থেকেই ভারতীয় দলে ‘ফিয়ারলেস ক্রিকেট’-এর কথা বারবার শোনা যাচ্ছে। টি-২০ থেকে টেস্ট— সব ফরম্যাটেই খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক খেলা খেলতে উৎসাহ দিচ্ছেন তিনি। সুদর্শনের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, সেই দর্শন এখন ভারতীয় ড্রেসিংরুমের তরুণ ক্রিকেটারদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিষেক ম্যাচেই দলকে ভরসা জুগিয়ে সুদর্শন শুধু নিজের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের স্মরণীয় সূচনা করলেন না, একই সঙ্গে গম্ভীরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারও সফল বাস্তবায়ন ঘটালেন। ভারতের টেস্ট দলের রূপান্তরের এই সময়ে কোচের আস্থা এবং তরুণ ব্যাটসম্যানদের প্রতিভার মেলবন্ধন ভবিষ্যতের জন্য বড় আশার বার্তা দিচ্ছে।