আবার শিক্ষিকার চাকরি পেলেন শিলিগুড়ির অনামিকা রায়। এবার আপার প্রাইমারিতে চাকরি পেলেন তিনি। উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর অঞ্চলের বেলঝাড়ি জুনিয়র হাইস্কুলে তাঁর পোস্টিং হয়েছে। দ্রুত সেই স্কুলে যোগ দেবেন বলে সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন অনামিকা রায়। এই অনামিকাকে সহ্য করতে হয়েছে নানা অপমান। এমনকী চাকরি খুইয়ে বেকার হয়ে যেতে হয়েছিল। একের পর এক ঘটনায় জীবন অস্থির হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে চাকরি ফিরে পেলেন অনামিকা।
স্কুলশিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় অনেকের চাকরি গিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ‘শিকার’ অনামিকা রায়। তাঁর চাকরি পাওয়া এবং খোয়ার নেপথ্যে বড় কাহিনী রয়েছে। ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্যানেলে প্রাক্তনমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারী নিয়ম বহির্ভূতভাবে চাকরি পেয়ে ছিলেন। কিন্তু তখন আইনি লড়াই করে সেই চাকরি পেয়ে যান ববিতা সরকার। যদিও মার্কশিটে নম্বর বেশি দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠায় তাঁকেও চাকরি খোয়াতে হয়। তখন যোগ্যতার নিরিখে ওই চাকরি পেয়েছিলেন অনামিকা রায়। তবে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলায় তাঁকেও চাকরি হারাতে হয়।
যদিও নিজের কাজ এবং অনুশীলন চালিয়ে যান অনামিকা। এই আবহে ২০১৫ সালের আপার প্রাইমারিতে নিয়োগ নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল সেটা কাটিয়ে কাউন্সেলিং চলছে। তাই আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ১,১৭৭ জন প্রার্থীর কাউন্সেলিং এবং সুপারিশপত্র দেওয়ার কাজ করছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। এবার ওই আপার প্রাইমারিতেই চাকরি পেলেন অনামিকা রায়। এখন তিনি অত্যন্ত খুশি। নিজের মেধার উপর ভরসা রেখে কাজ করে যাচ্ছিলেন। অবশেষে যেন সাফল্য এল। আর তাতেই এখন মুখে হাসি ফুটেছে অনামিকার।
২০২৩ সালের ১৬ মে ববিতা সরকারের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এমনকী ববিতাকে ১৫ লক্ষ টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দুই কিস্তিতে সুদ-সহ ১৫ লক্ষ টাকা ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি। তবে ববিতাকে বেতন বাবদ পাওয়া টাকা ফেরাতে হয়নি। ওই শূন্যপদে শিলিগুড়ির বাসিন্দা অনামিকা রায়কে চাকরি দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি। তবে সেই চাকরিও খোয়া যায়। এবার নতুন চাকরি পেলেন শিলিগুড়ির অনামিকা রায়। নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে চাকরি পেলেন। তাই তো অনামিকা রায় সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হওয়ার পর নানা টালবাহানা চলছিল। এতদিনে মানসিক শান্তি পেলাম। দ্রুত চাকরিতে যোগ দেব।’




