রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধল। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে জানা গিয়েছে, যা প্রশাসনিক মহল এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে নির্ধারিত সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা আপডেটের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় প্রথমে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল। এর সঙ্গে সম্প্রতি আরও ৪ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯৭০ জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে বলে নির্বাচন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ভোটাররা প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে পারেননি অথবা তাঁদের দেওয়া নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে।
Advertisement
একইসঙ্গে জানা গিয়েছে, শুনানি পর্বে প্রায় ৫ লক্ষ ভোটার উপস্থিতই হননি। ফলে তাঁদের ভোটার হিসেবে যোগ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, এখনও প্রায় ৪ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩২৩ জন ভোটারের নথি যাচাই বাকি রয়েছে। এছাড়া, প্রাথমিকভাবে বৈধ বলে চিহ্নিত হওয়া প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটারের তথ্য পুনরায় পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রায় ২০ লক্ষ ভোটারের তথ্য চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের চূড়ান্ত অবস্থান এখনও অনিশ্চিত।
Advertisement
নির্বাচন দপ্তরের একাংশের মতে, এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের তথ্য যাচাই এবং নিষ্পত্তির জন্য আরও সময় প্রয়োজন হতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যেই জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রায় ১ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাইয়ের জন্য রাজ্যের বাইরে পাঠানো হয়েছিল। তবে শুনানি পর্ব শেষ হলেও সেই নথিগুলির একটি অংশ এখনও যাচাই হয়ে ফেরত আসেনি। ফলে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, রাজ্যের অভ্যন্তরে যেসব নথি যাচাই করার কথা ছিল, সেগুলির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। রাজ্যের বাইরে পাঠানো কিছু নথি যাচাই হয়ে ফেরত আসার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেই প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদী।
প্রশাসনিক মহলের মতে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ভুল ভোটার তালিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তবে একইসঙ্গে যাতে কোনও যোগ্য ভোটার ভুলবশত তালিকা থেকে বাদ না পড়েন, তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তাই সময়সীমা বাড়ানো হলে তা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Advertisement



