গত বছর আহমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছিল। তা নিয়ে ইতালির একটি দৈনিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আহমেদাবাদের বিমান দুর্ঘটনা নিছক কোনও দুর্ঘটনা নয়। ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানের জ্বালানি সুইচ বন্ধ করে দিয়েছিলেন পাইলট।
ইতালির দৈনিক ‘করিয়েরে ডেলা সেরা’র একটি প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। যদিও উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ দুর্ঘটনা নিয়ে সরকারিভাবে চূড়ান্ত কোনও রিপোর্ট এখনও প্রকাশ করেনি। তাই এখনই সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সঠিক নয় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
Advertisement
‘করিয়েরে ডেলা সেরা’ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল পাইলটের পদক্ষেপের ফলেই। ইচ্ছাকৃতভাবে পাইলট বিমানের জ্বালানি সুইচ বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
Advertisement
গত বছর জুনে আহমেদাবাদ থেকে উড়ানের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি । বিমানে থাকা ২৬০ জন প্রাণ হারান। বেঁচে যান একজন যাত্রী।
ইতালির রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমানের ইঞ্জিন ফুয়েল কাট অফ কোনও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হয়নি। ককপিটের ভিতরে কেউ ইচ্ছেকৃতভাবে ফুয়েল সুইচ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তদন্তে সাহায্যকারী মার্কিন বিশেষজ্ঞরাও এটিকে ‘বড় অগ্রগতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে এএআইবি-র প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসে। সেখানে ককপিট ভয়েস রেকর্ডিংয়ে দুই পাইলটের শেষ কথোপকথন উল্লেখ করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী এক পাইলট বলেন, ‘তুমি ফুয়েল সুইচ বন্ধ করলে কেন? অপরজন উত্তর দেয়,’আমি বন্ধ করিনি’। এই কথোপকথনের ভিত্তিতেই বলা হচ্ছে, যান্ত্রিক গোলযোগে ইঞ্জিন বন্ধ হয়নি। কেউ ইচ্ছাকৃত এই কাজ করেছেন।
ক্যাপ্টেন সুমিত সবরওয়াল কিংবা কো পাইলট ক্লাইভ কুন্দরের মধ্যে কেউ একজন ওই সুইচ বন্ধ করেছিলেন বলে জানিয়েছে ওই রিপোর্ট। ইতালির পত্রিকার দাবি, প্রাথমিকভাবে সুমিত সবরওয়ালের উপরই সন্দেহ বেশি রয়েছে। কারণ দুর্ঘটনার এক মাস পর তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে কিছু তথ্য প্রকাশ্যে আসে। যদিও সুমিতের পরিবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তাঁর বাবার দাবি , ‘পাইলট হিসেবে তাঁর ছেলে অত্যন্ত দায়িত্ববান ছিলেন, মানসিক সমস্যার কথা সম্পূর্ণ মিথ্যে।’পাইলটদের নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি চূড়ান্ত রিপোর্টে সুপারিশ করা হবে। প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পরে নানা তত্ত্ব উঠে এলেও শেষে তদন্তকারীরা নজর দেন ককপিটের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচের দিকেই। ব্ল্যাক বক্সের ডেটাতে দেখা যায়, দুর্ঘটনার সময় বিমানের দুটি ইঞ্জিনই বন্ধ ছিল। আর সেটা করা হয়েছিল ম্যানুয়ালি। তবে তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে। তবে ডিজিসিএ চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ না করা পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তই নিশ্চিত নয়।
Advertisement



