• facebook
  • twitter
Saturday, 7 February, 2026

প্রয়াত বলিউড অভিনেতা সুনীল থাপা, বয়স হয়েছিল ৬৮

নেপালের প্রধানমন্ত্রী শুশীলা কার্কি তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে বলেন, ‘তাঁর প্রয়াণে নেপালি ও ভারতীয় চলচ্চিত্র জগত এক বহুমুখী শিল্পীকে হারাল।

নেপালের বর্ষীয়ান অভিনেতা তথা বলিউডের পরিচিত মুখ সুনীল থাপা আর নেই। শনিবার সকালে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। ইসিজি পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা সম্ভাব্য হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যুর কথা জানান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে। নেপাল ফিল্ম আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহন নিরৌলা বলেন, ‘হাসপাতাল আমাদের জানিয়েছে, হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা মুম্বইয়ে থাকেন। তাঁরা এলে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।’

Advertisement

প্রসঙ্গত, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নেপালি চলচ্চিত্রে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন সুনীল থাপা। তিন শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। নেপালি ছবির পাশাপাশি হিন্দি, তামিল ও ভোজপুরি ভাষার একাধিক ছবিতেও তাঁর অভিনয় দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

Advertisement

নেপালি ছবি ‘চিনো’-তে ‘রাতে কৈলা’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বিশেষ জনপ্রিয়তা পান। সেই চরিত্রই তাঁকে নেপালি চলচ্চিত্রে অন্যতম শক্তিশালী খলনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়। এরপর একাধিক ছবিতে ভয়ংকর খলচরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলেছিল।

ভারতীয় ছবিতে তিনি বিশেষভাবে পরিচিতি পান ‘মেরি কম’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে। ওই ছবিতে তিনি বক্সার মেরি কম-এর জীবনীভিত্তিক কাহিনিতে প্রশিক্ষকের ভূমিকায় অভিনয় করেন। ছবিতে মেরি কমের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। এই ছবির জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে মনোনয়নও পান। বলিউডে তাঁর প্রথম কাজ ছিল ‘এক দুজে কে লিয়ে’ ছবিতে।

চলচ্চিত্রে আসার আগে মুম্বইয়ে মডেলিং দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন সুনীল থাপা। পাশাপাশি পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবেও তিনি মুম্বইয়ের কয়েকটি ক্লাবে খেলেছিলেন। অভিনয় জীবনের পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তাঁর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী শুশীলা কার্কি তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে বলেন, ‘তাঁর প্রয়াণে নেপালি ও ভারতীয় চলচ্চিত্র জগত এক বহুমুখী শিল্পীকে হারাল। চিনো-র রাতে কৈলা থেকে মেরি কম-এ প্রশিক্ষকের ভূমিকায় তাঁর অভিনয় চিরকাল দর্শকের স্মৃতিতে জীবন্ত হয়ে থাকবে।’

নেপাল ও ভারতের চলচ্চিত্র জগতে তাঁর দীর্ঘ অবদান তাঁকে এক অনন্য মর্যাদা এনে দিয়েছিল। সহকর্মী ও অনুরাগীদের মতে, সুনীল থাপার মতো ব্যক্তিত্ব ও প্রতিভাধর শিল্পী সহজে পাওয়া যাবে না।

Advertisement