• facebook
  • twitter
Saturday, 7 February, 2026

নবাবি ঐতিহ্যের রঙে রাঙা লালবাগ, মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ফেস্টিভ্যালে দেশি-বিদেশি পর্যটকের ভিড়

হেরিটেজ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও কর্ণধার সন্দীপ নওলখা বলেন, মুর্শিদাবাদ শুধু একটি পর্যটনস্থল নয়, এটি ভারতের ইতিহাসের এক জীবন্ত অধ্যায়।

নবাবি আমলের ঐতিহ্য, আভিজাত্য ও সংস্কৃতির আবহে মুখর লালবাগ। দেশি-বিদেশি প্রায় শ’দুয়েক পর্যটকের উপস্থিতিতে ৬ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দিন ধরে চলছে মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ফেস্টিভ্যাল। নবাবি বাংলার অতীত গৌরবকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি।

সংস্থার তরফে কমলিকা দত্ত ঘোষ বলেন, কাঠগোলা গার্ডেন ও প্রাসাদের রাজকীয় প্রেক্ষাপটে, অভিজাত বড়ি কোঠি, প্রাচীন মসজিদ ও মন্দির এবং ভাগীরথী পাড়ের মনোরম পরিবেশের মাঝে তিন দিনের এই উৎসব মুর্শিদাবাদের সেই ঐতিহ্যকে উদযাপন করছে, যা একসময় তাকে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত করেছিল।

Advertisement

একদা বাংলার রাজধানী হিসেবে ক্ষমতা, ঐশ্বর্য ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র ছিল মুর্শিদাবাদ। রাজপ্রাসাদ, গঙ্গার ঘাট, রেশম বয়নশিল্পের তাঁত, প্রাচীন স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন আজও বহন করে চলেছে সেই অতীতের গল্প। আয়োজকদের মতে, এই উৎসব দর্শকদের নিয়ে যাচ্ছে নবাবি ও বণিক সমাজের পরিশীলিত জীবনযাপনের গভীরে—যেখানে সংস্কৃতি ছিল নান্দনিকতার প্রতীক, খাদ্য ছিল শিল্পের মর্যাদায় উন্নীত এবং স্থাপত্যে প্রতিফলিত হতো শক্তি ও সৌন্দর্যের মেলবন্ধন।

Advertisement

উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ঐতিহাসিক স্থাপত্য দর্শন। হাজারদুয়ারী প্রাসাদ, কাটরা মসজিদ, নশিপুর রাজবাড়ি, কাঠগোলা প্রাসাদ, বড়ি কোঠি, জৈন কোঠি, জগৎ শেঠের বাড়ি এবং তাঁতিপাড়ার ঐতিহাসিক অলিগলি ঘুরে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন পর্যটকরা। ভাগীরথী নদী যেন নীরব সাক্ষী থাকছে এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের।

কমলিকা দত্ত ঘোষ জানান, রানি ভবানিকে নিয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, আজিমগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ, ভাগীরথীর বুকে চায়ের কাপ হাতে ভ্রমণ, গঙ্গা আরতি ও আতশবাজির প্রদর্শনী—সব মিলিয়ে এই উৎসব হয়ে উঠেছে আবেগ, আনন্দ ও ইতিহাসের এক মিলনমেলা।

হেরিটেজ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও কর্ণধার সন্দীপ নওলখা বলেন, মুর্শিদাবাদ শুধু একটি পর্যটনস্থল নয়, এটি ভারতের ইতিহাসের এক জীবন্ত অধ্যায়। এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা চাই মানুষ তার আত্মাকে অনুভব করুক—তার ঐতিহাসিক পথ ধরে হাঁটুক, তার ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিক। তাঁদের লক্ষ্য অতীতের গর্বকে পুনর্জাগ্রত করা, ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা এবং মুর্শিদাবাদের দরজা বিশ্বের সামনে খুলে দেওয়া।

আয়োজকদের মতে, মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ফেস্টিভ্যাল কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়—এটি এমন এক জগতে প্রবেশের সুযোগ, যেখানে ইতিহাস, শিল্প ও আভিজাত্য আজও হাত ধরাধরি করে বেঁচে আছে।

Advertisement