• facebook
  • twitter
Thursday, 22 January, 2026

বিপুল অর্থব্যয়ে বাংলাদেশে ক্ষমতা দখলের মরিয়া চেষ্টা জামায়াতের

বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ নিয়ে জামায়াত নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করার চেষ্টা করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।

ঢাকা ও গ্রামীণ এলাকাকে নিশানা করে ফেব্রুয়ারির আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয়ের লক্ষ্য নিয়ে আগ্রাসী প্রচারে নেমেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলীয় অভ্যন্তরীণ সমীক্ষার ভিত্তিতে জামায়াত ৩৫০ আসনের মধ্যে ১৬৩টি আসনকে ‘উইনেবল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সেজন্য এই আসনগুলিতেই তাদের সমস্ত শক্তি ও অর্থ নিয়োগ করে এগিয়ে চলেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যেখানে জয়ের সম্ভাবনা নেই এমন প্রায় ১৩০টি আসন থেকে জামায়াত তাদের ক্যাডারদের সরিয়ে এনে সম্ভাবনাময় কেন্দ্রগুলিতে মোতায়েন করেছে। বিশেষ করে ঢাকা ও তার আশপাশের অন্তত ২০টি আসনে প্রচার ও সংগঠন জোরদার করা হয়েছে, যেখানে দলটি ভালো ফলের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।

Advertisement

প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে জামায়াত এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অতীতে একসঙ্গে সরকার গঠন করলেও এবার দুই দলের পথ আলাদা। ফলে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ নিয়ে জামায়াত নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করার চেষ্টা করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।

Advertisement

সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনার অপসারণের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপর জামায়াতের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। এই প্রভাব কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী বছরে বিপুল অর্থব্যয় করা হচ্ছে। জয়ের সম্ভাবনাময় কেন্দ্রগুলিতে প্রায় ১০০ কোটি বাংলাদেশি টাকা পর্যন্ত খরচ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এমনকি সহজে জয় লাভের মতো সম্ভাব্য আসনগুলিতেও কোনও ঝুঁকি না নিতে ব্যাপক অর্থব্যয় করছে।

জানা গিয়েছে, জামায়াত দরিদ্র ভোটারদের টার্গেট করে মোবাইল নম্বর ও পরিচয়পত্র সংগ্রহের মাধ্যমে তথ্যভিত্তিক প্রচার শুরু করেছে। শহরাঞ্চলে দলের মহিলা শাখা ও ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থা (বিআইসিএস) এবং ইসলামী ছাত্র শিবির (আইসিএস) বাড়ি-বাড়ি সমীক্ষা চালাচ্ছে। দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠনের প্রভাব থাকায় বিপুল মানবসম্পদ তাদের পক্ষে কাজ করছে।

অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে জামায়াতের দাবি, তারা জাতীয় সংসদের অন্তত ২০৫টি আসনে জয় পেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, আপাতত প্রকাশ্যে কট্টর ধর্মীয় এজেন্ডা তুলে ধরা না হলেও ক্ষমতায় এলে জামায়াত তাদের প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশ করবে এবং মৌলবাদী মতাদর্শ বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে পারে।

ভারতের নিরাপত্তা মহলের মতে, জামায়াত ক্ষমতায় এলে তা ভারতের জন্য উদ্বেগজনক হতে পারে। পাকিস্তানঘেঁষা নীতি ও চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

Advertisement