• facebook
  • twitter
Saturday, 28 February, 2026

বিচারব্যবস্থায় আস্থা ফেরানোই বিএনপি সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

কঠিন পরীক্ষার মুখে বাংলাদেশ

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার এখন দেশের বিচারব্যবস্থায় জনআস্থা ফিরিয়ে আনার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই সরকারকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা যেমন অনেক, তেমনই বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

আইন বিশেষজ্ঞ এবং প্রশাসনিক মহলের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, গত কয়েক বছরে বিচারব্যবস্থাকে ঘিরে মানুষের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে এই বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা।

Advertisement

বাংলাদেশের প্রভাবশালী সংবাদপত্র দ্য ডেইলি স্টার–এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে দেশের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের উপ-সলিসিটার মোঃ আরিফুজ্জামান উল্লেখ করেছেন, বর্তমান সরকার একটি জটিল এবং চ্যালেঞ্জপূর্ণ পরিস্থিতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে। তিনি বলেন, অতীতে এমন বহু আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল, যার ফলে ব্যাপক গ্রেপ্তার এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার অভিযোগ উঠেছিল। এই আইনগুলির পুনর্মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন এখন অত্যন্ত জরুরি।

Advertisement

তিনি আরও বলেন, বিচারপতি নিয়োগ এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। বিচারব্যবস্থাকে নিরপেক্ষ রাখতে হলে রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও সংযত ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। বিচারাধীন বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা বা তদন্তকারী সংস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করা হলে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাস একদিনে ফিরে আসবে না। প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আইনকে সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করাই এই আস্থা পুনর্গঠনের মূল চাবিকাঠি। জনগণ যখন দেখবেন যে, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সবাই সমানভাবে আইনের আওতায় আসছেন, তখনই বিচারব্যবস্থার প্রতি বিশ্বাস ধীরে ধীরে ফিরে আসবে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও শুধুমাত্র আইন পরিবর্তন করে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা সম্ভব নয়। তার জন্য প্রয়োজন বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং প্রশাসনিক সততা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি নতুন সরকার বিচারব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে সক্ষম হয়, তাহলে তা শুধু একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারই হবে না, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর স্থিতিশীলতা অনেকটাই বিচারব্যবস্থার উপর নির্ভর করছে। তাই বিচারব্যবস্থায় মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা নতুন সরকারের জন্য শুধু একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি দেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

Advertisement