• facebook
  • twitter
Saturday, 30 May, 2026

হরমুজে কূটনৈতিক সাফল্য, ভারতীয় জাহাজ চলাচল নিয়ে স্বস্তিতে দিল্লি

ট্রাম্পের শর্ত মেনে তেহরান স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটবে কি না তা নিয়েও স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলেনি

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

ইরান-আমেরিকা সম্পর্ক এখনও নানা জটিলতার মধ্যে আটকে। ট্রাম্পের শর্ত মেনে তেহরান স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটবে কি না তা নিয়েও স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলেনি। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি যে কোনও সময় নতুন দিকে মোড় নিতে পারে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের জন্য স্বস্তির খবর।  বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচলে আপাতত কোনও বাধা নেই। ভারতে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজের যাতায়াত স্বাভাবিকই রয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজকে কেন্দ্র করে উদ্বেগের সূত্রপাত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। ইরানে ইজরায়েল ও আমেরিকার হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরানও। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর ইরান হুঁশিয়ারি দেয়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এর জেরে প্রণালীর দুই প্রান্তে শতাধিক জাহাজ আটকে পড়ে। সেই তালিকায় ছিল ভারতের বেশ কয়েকটি তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজও।

Advertisement

এরপরই সক্রিয় হয় ভারতের কূটনৈতিক মহল। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একাধিকবার ফোনে কথা বলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে। দিল্লির অনুরোধে মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ানের সরকার। সেই সিদ্ধান্তের ফলেই আপাতত স্বস্তিতে রয়েছে ভারত।

Advertisement

শুক্রবার এক বৈঠকে হরমুজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাহাজ ও বন্দর মন্ত্রকের অধীন নৌ-পরিবহণ বিষয়ক অধিকর্তা ওপেশকুমার শর্মা। তিনি জানান, হরমুজে ভারতীয় জাহাজ চলাচলের বিষয়টি নিয়ে তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। যদিও কী ধরনের সমন্বয়ের মাধ্যমে বিষয়টি পরিচালনা করা হচ্ছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তিনি। তাঁর কথায়, বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই কাজ করছে দপ্তর।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালী এলাকায় প্রায় ১৩টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওপেশকুমার। এর মধ্যে রয়েছে একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার, পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার, একটি রাসায়নিক বা পণ্যবাহী ট্যাঙ্কার, তিনটি কন্টেনার জাহাজ, দু’টি বাল্ক ক্যারিয়ার এবং একটি ড্রেজার। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এই জলপথে ভারতের নৌ-পরিবহণ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

ভারত সরাসরি ইরান থেকে খুব বেশি তেল আমদানি না করলেও দেশের মোট তেল চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি বিদেশ থেকে আসে। এর প্রায় অর্ধেকই হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতে পৌঁছয়। ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কুয়েতের মতো দেশ থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লক্ষ ব্যারেল তেল এই পথেই আসে। শুধু তেল নয়, ভারতের তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশও হরমুজ হয়ে আমদানি করা হয়।

এই কারণে ইরানের অবরোধ, মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি এবং যুদ্ধের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করলেও, ভারতীয় জাহাজ চলাচল আপাতত অব্যাহত রয়েছে। ফলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে দিল্লি। তবে পরিস্থিতির যে কোনও সময় বদল ঘটতে পারে। ফলে সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার এই  জলপথের উপর।

Advertisement