• facebook
  • twitter
Tuesday, 20 January, 2026

মোদীর পর সিঙ্গুরে মমতা, ২৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী

বড় কোনও ঘোষণা, সেদিকেই নজর সকলের

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

ছাব্বিশের ভোটের আগে চর্চায় সিঙ্গুর। মোদীর বঙ্গ সফরে সিঙ্গুর নিয়ে স্বপ্ন দানা বেঁধেছিল রাজ্য বিজেপির অন্দরে। কিন্তু মোদীর বক্তব্যের পর তা ফানুস হয়ে উড়ে গিয়েছে। বিজেপির নেতা-কর্মীরা একপ্রকার হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাঁরা ভেবেছিলেন মোদী হয়তো সিঙ্গুরে টাটাগোষ্ঠী ফিরিয়ে আনার বার্তা দেবেন। কিন্তু সিঙ্গুর থেকে মোদী সে বিষয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি।

এবার সেই সিঙ্গুর থেকেই বড় ঘোষণা করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদি শেষ পর্যন্ত কোনও অঘটন না ঘটে তাহলে ২৮ জানুয়ারি, বুধবার সিঙ্গুরে সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই সভা হবে প্রশাসনিক। শুধু সভা নয়, সেই মঞ্চ থেকেই বাংলার বাড়ি প্রকল্পের কিস্তি প্রদান করা হবে। বাংলায় আরও ১৬ লক্ষ পরিবারকে বাড়ি বানানোর জন্য ওই মঞ্চ থেকে প্রথম কিস্তির টাকা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। শিল্পের কোনও বার্তা দেন কিনা, সেই দিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। তবে বড় কোনও ঘোষণা হতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে।

Advertisement

১৬ লক্ষ পরিবার মানে প্রায় কমবেশি ৬০ থেকে ৮০ লক্ষ মানুষ মাথার উপর পাকা ছাদ পাবেন। আর  এ জন্য রাজ্য সরকারের খরচ হবে প্রায় ১৯ হাজার কোটিরও কিছু বেশি টাকা। ১৬ লক্ষ পরিবার বাড়ি বানাতে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাবেন প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। এই বাবদ রাজ্য সরকারের খরচ হবে ১৯ হাজার ২০০ কোটি টাকা। বাংলায় অতীতে কোনও সরকার, কোনও একটি প্রকল্পে এক লপ্তে এত হাজার কোটি টাকা খরচ করেনি। সেই অর্থে এই ঘোষণা হতে চলেছে মাইলফলক।

Advertisement

গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মোদী এই সিঙ্গুর থেকেই ন্যানোকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন। মোদীর সিঙ্গুর সফর সেই জল্পনাকে উস্কে দিয়েছিল। বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে সিঙ্গুরে তেমনই বড় কোনও শিল্প ফিরিয়ে দেওয়ার বার্তা মোদী দেবেন, ভেবেছিল রাজ্য বিজেপি। কিন্তু কার্যত দেখা গেল উলট পুরাণ। তেমন কোনও বার্তা না দেওয়ায় তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। আর মোদীর সভা করার ঠিক দশ দিনের মাথায় সেই সিঙ্গুরেই সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই সিঙ্গুরে ৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের সিলমোহর দিয়েছে রাজ্যমন্ত্রী সভা। ১১.৩৫ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। কাজ শুরু হয়েছে বলেও খবর।

বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে জমি আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যে বাম ক্ষমতায় আসার পিছনে ছিল জমি আন্দোলন। তারপরে বড়সড় জমি আন্দোলন হল সিঙ্গুর আন্দোলন। সিঙ্গুরের এই জমি আন্দোলনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী  হওয়ার পথে একধাপ এগিয়ে দিয়েছিল। শিল্পের নামে জোর করে কৃষকদের থেকে জমি নেওয়ার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন মমতা। কার্যত ছিনিয়ে নেওয়া সেই জমি চাষিদের ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ক্ষমতার ১৫ বছর পরেও ‘পাখির চোখ’ সেই সিঙ্গুর। হুগলির এই মাটিকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে নানান সমীকরণ।

Advertisement