• facebook
  • twitter
Sunday, 18 January, 2026

সিঙ্গুরে শিল্প নিয়ে টু শব্দটি করলেন না মোদী

কিন্তু নির্দিষ্ট করে সিঙ্গুরে শিল্পায়ন নিয়ে কিছু বলতে শোনা যায়নি মোদীকে

মোদীর বঙ্গ সফরের আগে  থেকেই সিঙ্গুর নিয়ে পারদ চড়ছিল। সিঙ্গুরে টাটা গোষ্ঠীকে ফিরিয়ে আনা নিয়ে বিজেপির অন্দরে শুরু হয়েছিল জল্পনা। গেরুয়া শিবিরের ছোট থেকে বড় সব নেতাই আশা করেছিলেন মোদী সিঙ্গুরে টাটাদেরর ফিরিয়ে আনার বার্তা দেবেন। কিন্তু রবিবার দেখা গেল উলট পুরাণ। বিজেপি কর্মীদের  আশায় এক প্রকার জল ঢেলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন সিঙ্গুর থেকে টাটাদের নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করতে দেখা গেল না তাঁকে। ফলে স্বভাবতই হতাশ গেরুয়া শিবিরের নেতা থেকে কর্মীরা।

রাজ্যে বিজেপি এলে ‘হাতে-পায়ে ধরে’ টাটাদের ফিরিয়ে আনার কথা বলেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এ বিষযে পিছিয়ে ছিলেন না। তিনিও একই আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু রবিবার সিঙ্গুরের সভায় টাটাদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে টু শব্দটি করেননি প্রধানমন্ত্রী।

Advertisement

ভোটমুখী রাজ্যে জমি আন্দোলনের আঁতুরঘর সিঙ্গুরকে টার্গেট করে এগোতে চেয়েছিল গেরুয়া শিবির। তাই এদিন শিল্পায়ন নিয়ে মোদী কী বার্তা দেন সেদিক নজর ছিল বিজেপি থেকে রাজনৈতিক মহলের। সিঙ্গুরের হাজার একর জমির মধ্যে চাষযোগ্য নয়, এমন অংশে শিল্পস্থাপনের দাবি তোলে ‘সিঙ্গুর বন্ধ্যা জমি পুনর্ব্যবহার কমিটি’ও। প্রধানমন্ত্রীর সভার আগে বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘আশা করছি, প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুর নিয়ে কোনও ইতিবাচক বক্তব্য শোনাবেন।‘   মোদীর ভাষণে টাটার নামোচ্চারণ শোনা গেল না। মোদী শিল্পায়ন নিয়ে কথা বললেও, টাটাকে আবার সিঙ্গুরে ডেকে এনে শিল্পস্থাপনের আশ্বাস দিলেন না।

Advertisement

মোদীর বার্তা  বিজেপি ক্ষমতায় এলে এ রাজ্যেও শিল্প আসবে। সাধারণ মানুষ চাকরি পাবেন। কিন্তু তার আগে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে। বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শিল্পায়ন সম্ভব নয় বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘এ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ঠিক হলে তবেই বিনিয়োগ আসবে। কিন্তু এখানে মাফিয়াদের ছাড় দিয়ে রাখা হয়েছে। এখানে সব কিছুতে সিন্ডিকেট ট্যাক্স বসিয়ে রাখা হয়েছে। এই সিন্ডিকেট ট্যাক্স এবং মাফিয়াবাদকে বিজেপিই শেষ করবে। এটাই মোদীর গ্যারান্টি।‘

কিন্তু নির্দিষ্ট করে সিঙ্গুরে শিল্পায়ন নিয়ে কিছু বলতে শোনা যায়নি মোদীকে। ফলে আশাহত স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। এক নেতার কথায়, ‘আমরা ভেবেছিলাম, সিঙ্গুর নিয়ে নিশ্চয়ই কিছু বলবেন প্রধানমন্ত্রী। তার কারণ, সিঙ্গুরের বহু মানুষ তা-ই চাইছেন। আমরাও তাঁদের বলছি যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে নিশ্চয়ই কিছু করবে। আমাদের এই মুখে এই কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী ভাষণের দিকে নজর রেখেছিলেন অনেকেই। প্রতিশ্রুতি শুনতে চাইছিলেন তাঁরা। কিন্তু সে সব তো কিছুই হল না। এবার আমরা তাঁদের কী জবাব দেব, সেটা বুঝতে পারছি না।‘

আবার একই সঙ্গে বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার এক নেতা বলেন, ‘খানিক আশাহত তো বটেই। উনি টাটাকে ফেরানোর কথা বলে এখানে আমাদের জমি আরও পোক্ত হত ঠিকই।এটাও মাথায় রাখতে হবে যে, উনি প্রধানমন্ত্রী। ওঁকে অনেক ভেবেচিন্তে কথা বলতে হয়। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে শিল্প হবেই। তা সাধারণ মানুষ জানেন। প্রধানমন্ত্রী যদি টাটার নাম নেন, এবং পরে যদি টাটা না আসতে চান, তা প্রধানমন্ত্রী এবং দলের ভাবমূর্তির জন্য ভালো হবে না। শিল্প তো হবেই। টাটা গোষ্ঠীর পরিবর্তে অনেক কোনও গোষ্ঠীও হতে পারে। মানুষের যাতে ভালো হয়, বিজেপি তা-ই করবে।‘

Advertisement