• facebook
  • twitter
Sunday, 18 January, 2026

১৫০০ শিশুকে উদ্ধার করে ভারতীয় রেলের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত উত্তরপ্রদেশের আরপিএফ চন্দনা সিনহা

চন্দনার তৈরি দল ২০২৪ সালে নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধার করতে অভিযান শুরু করে

ভারতীয় রেলের সর্বোচ্চ সম্মান পেলেন উত্তরপ্রদেশের মহিলা আরপিএফ অফিসার চন্দনা সিনহা। রেলস্টেশন থেকে নিখোঁজ হওয়া দেড় হাজার শিশুকে নিজের উদ্যোগে উদ্ধার করেছেন তিনি। চন্দনার তৈরি দল ২০২৪ সালে নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধার করতে অভিযান শুরু করে। ২০২৫-এর মধ্যে ১ হাজারেরও বেশি শিশুকে উদ্ধার করা হয়। গত ৯ জানুয়ারি দিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁকে সর্বোচ্চ পরিষেবা সম্মান-‘অতি বিশিষ্ট রেল সেবা’ পুরস্কার দেওয়া হয়।

প্রতি সপ্তাহে রেল স্টেশন থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় শিশুরা। হয় তারা হারিয়ে যায়, নয়তো তাদের ধরে নিয়ে যায় পাচারকারীরা। অনেক ক্ষেত্রে তাদের কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোলানো হয়। গত তিন বছরে রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনীর ইন্সপেক্টর চন্দনা সিনহা উত্তরপ্রদেশের রেলের আওতাধীন দেড় হাজার জনেরও বেশি শিশুকে উদ্ধারে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
শুধুমাত্র ২০২৪-এই তাঁর দল ৪৯৪ জন শিশুকে উদ্ধার করেছে। এঁদের মধ্যে ৪১ জনকে কাজের জন্য পাচার করা হয়েছিল। এই শিশুদের মধ্যে ১৫২ জন শিশুকে তিনি নিজে উদ্ধার করেছিলেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, যেদিন তাঁকে সম্মানিত করা হয়, সেদিনই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লখনউতে ফিরে আসেন। কারণ তাঁর কাছে খবর এসেছিল প্ল্যাটফর্ম-৩তে একটি শিশুকে একা দেখতে পাওয়া গিয়েছে।   
লখনউয়ের চারবাগ স্টেশন থেকে চন্দনা কাজ শুরু করেছিলেন। শুরুতে নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনা ছিল না। প্রথমে তিনি বিচ্ছিন্ন এক একটি ঘটনা ধরে ধরে কাজ করতেন- কখনও হারিয়ে যাওয়া একটি শিশু, কখনও বা সন্দেহজনক কোনও যাত্রী দেখলে তিনি তাঁর কাজ শুরু করতেন। ধীরে ধীরে কাজের একটি পদ্ধতি গড়ে তোলেন চন্দনা। তৈরি হয় বিশেষ দল। এখন তাঁর দলে এমন অফিসাররাও আছেন, যাঁরা প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েই বুঝতে পারেন কোনও শিশু বিপদে আছে কিনা। এখন তাঁদের সঙ্গে রয়েছে সমাজসেবী সংস্থা, তথ্য দিতে পারেন এমন মানুষদের নেটওয়ার্ক। 
 
ছত্তিসগড়ের বিলাসপুরের বাসিন্দা চন্দনার অনুপ্রেরণা ছিল আশির দশকের টিভি সিরিজ উড়ান এর আইপিএস অফিসার কল্যাণী সিনহা। তাঁরা বাবা সরকারি কর্মী ছিলেন। ২০১০-এ চন্দনা আরপিএফ-এ যোগ দেন। কর্মজীবনে সিনহা রেলওয়ে বোর্ডে দায়িত্ব পালন করেছেন, আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং বিভিন্ন দপ্তরেও কাজ করেছেন। তবে তিনি ক্যামেরার সামনে আসতে অনিচ্ছুক। প্রচারের আলো এড়িয়ে চলতেই পছন্দ করেন চন্দনা। তিনি বলেন, ‘যে কাজই আমাকে দেওয়া হয় আমি তা মনোযোগ দিয়ে করি।’ পেশাগত জীবনের পাশাপাশি তিনি একজন ১১ বছর বয়সী কন্যাসন্তানের মা।

Advertisement

Advertisement