‘বইমেলা বইমেলা বই দিয়ে ভরা/ গল্প-কবিতা-গান মিঠে কড়া ছড়া’– বইমেলার দিন এগিয়ে এলেই আমাদের অনেকের মনে পড়ে ভবানীপ্রসাদ মজুমদারের এই ছড়ার লাইন। আর দশ দিন পরেই শুরু হতে চলেছে ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। আগামী ২২ জানুয়ারি বিকেল চারটেয় সল্টলেকের বইমেলা প্রাঙ্গণে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। উদ্বোধক ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের ফোকাল থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা। সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে থাকবেন আর্জেন্টিনার বিশিষ্ট সাহিত্যিক গুস্তাবো কানসোব্রে এবং ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউসিনো। রাজ্যের মন্ত্রী, কবি, সাহিত্যিক ও গুণিজনেরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের তরফে সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়, এ বছর বইমেলায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। মেলায় প্রবীণ নাগরিক দিবস ‘চিরতরুণ’ উদ্যাপন করা হবে ৩০ জানুয়ারি এবং শিশু দিবস পালিত হবে ১ ফেব্রুয়ারি। মেলায় মোট ৯টি তোরণ থাকছে। এর মধ্যে দুটি ফটক আর্জেন্টিনার স্থাপত্যের আদলে নির্মিত হচ্ছে। প্রয়াত সাহিত্যিক প্রফুল্ল রায় ও প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের নামে দুটি তোরণের নামকরণ হবে। শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি তোরণ তাঁর নামে নামাঙ্কিত হবে। কবি রাহুল পুরকায়স্থের নামে লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়ন এবং শিল্পী ময়ূখ চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে শিশু মণ্ডপ থাকছে বইমেলায়।
Advertisement
২৬ জানুয়ারি ভূপেন হাজারিকা এবং ২৭ জানুয়ারি সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ আলোচনা ও সঙ্গীতানুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্যাপিত হবে বলে জানিয়েছে গিল্ড। এ বছর বইমেলায় যাতায়াতে বিশেষ সুবিধা থাকছে। মেট্রো রেলে হাওড়া থেকে এসপ্ল্যানেড হয়ে সরাসরি মেলা প্রাঙ্গণে পৌঁছনো যাবে। মেলার দিনগুলিতে অতিরিক্ত মেট্রো চালানো হবে এবং রাত পর্যন্ত পরিষেবা মিলবে বলে খবর। এবার মেলা প্রাঙ্গণ থেকেই কাটা যাবে মেট্রোর টিকিট। ভিড় এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেলা চলাকালীন প্রতিদিন বইপ্রেমীদের সুবিধার্থে বিশেষ বুথ ও ইউপিআই টিকিট ব্যবস্থাও থাকছে।
Advertisement
ডিজিটাল ব্যবস্থার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে আয়োজকরা। আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার অ্যাপ ব্যবহার করে গুগল লোকেশনের মাধ্যমে স্টল খোঁজা যাবে। প্রতিটি গেটে কিউআর কোড স্ক্যান করে ডিজিটাল ম্যাপ ও অংশগ্রহণকারীদের তালিকা পাওয়া যাবে। প্রায় ২০টি দেশ সরাসরি ও যৌথভাবে এবারের বইমেলায় অংশ নিচ্ছে। তবে থাকছে না বাংলাদেশ। গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করছে না। গতবারও অংশ নেয়নি। এবারেও নেবে না। আপনারা বাস্তব পরিস্থিতি জানেন। কোনও জায়গা থেকে কোনও সবুজ সংকেত আমাদের কাছে আসেনি।’
২৪ ও ২৫ জানুয়ারি কলকাতা লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হবে, যা বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ। এই ফেস্টিভ্যালের কিউরেটর মালবিকা ব্যানার্জি জানিয়েছেন, এবার যোগ দেবেন সাহিত্যিক অমিতাভ ঘোষ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, শ্রীজাত-সহ আরও অনেকে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই বইমেলার মাধ্যমে পাঠকের সঙ্গে প্রকাশক ও লেখকদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি হয়। নতুন প্রজন্মের কাছেও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় বইমেলার মধ্যে দিয়ে। গিল্ড কর্তাদের মতে, বিদেশি অতিথিদের অংশগ্রহণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মিলিয়ে কলকাতা বইমেলা প্রতি বছর আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে। এ বছরও পাঠকদের বিপুল উপস্থিতি এবং উৎসাহে মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত হওয়ার আশা করছেন আয়োজকেরা।
Advertisement



