টানটান উত্তেজনা ও উৎসাহে সারা শহরজুড়ে টিকিটের হাহাকার। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেট ফাইনালে সম্মুখ সমরে নিউজিল্যান্ড আর ভারত। দুই দলের খেতাব জয়ের লক্ষ্যে সেরা পারফরম্যান্স করার চেষ্টায় কোনও ত্রুটি রাখতে চান না ক্রিকেটাররা। অত্যন্ত পজেটিভ এনার্জি রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দলে। বিশেষ করে সেমিফাইনাল ম্যাচে ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলকে যেভাবে ভারত হারিয়ে দিয়ে ফাইনালে উঠে এসেছে সেটাই সবচেয়ে বড় আত্মবিশ্বাসের হাতিয়ার। সেই কারণে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ব্রিগেড আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিয়ে প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডকে কঠিন পরীক্ষার সামনে দাঁড় করিয়ে দিতে পারে।
ভারতীয় দল পরপর দুটি ম্যাচে যেভাবে জয় তুলে নিয়ে এসেছে তা খেলোয়াড়দের মনোবলকে আরও দৃঢ় করেছে। মনে রাখতে হবে বিশ্বকাপ ফাইনাল মানেই স্নায়ুযুদ্ধের খেলা। সেখানে কোনোভাবে এক ইঞ্চি জমি ছাড়ার ইঙ্গিত থাকবে না। প্রতিপক্ষ দলকে কীভাবে ঘায়েল করে দেওয়া যায়, সেটাই সবচেয়ে বড় টার্গেট হবে। এই মুহূর্তে দারুণ ফর্মে রয়েছেন উইকেটরক্ষক সঞ্জু স্যামসন। তিনি বড় রানের মধ্যে রয়েছেন। ইডেন উদ্যানে এবং ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে তাঁর ঝোড়ো ব্যাটিং দেখে সবাই অভিভূত। বেশ কিছু দিন ধরে তিনি রানের মধ্যে ছিলেন না। সঞ্জু ফর্মে ফিরতেই দলের চেহারা বদলে গিয়েছে। পরপর দুটো ম্যাচে অল্পের জন্য শতরান থেকে বঞ্চিত হন তিনি। তাই দলের সতীর্থ খেলোয়াড়রা চাইছেন যখন সঞ্জু স্যামসনের ব্যাট কথা বলছে তাই আশা করা যেতে পারে ফাইনালে বিরাট অঙ্কের রান করে ভারতীয় স্কোরবোর্ডকে উজ্জ্বল করবেন তিনি। সঞ্জু নিজেও চাইছেন ভারতীয় দলকে চ্যাম্পিয়ন করার জন্য তাঁর একটি বড় ভূমিকা থাকুক।
Advertisement
অন্য ওপেনার অভিষেক শর্মাকে সেইভাবে এখনও দেখতে পাওয়া যায়নি। তাই অভিষেক নিজেও খেতাব জয়ের লক্ষ্যে সেরা পারফরম্যান্স করতে চাইছেন। ভারতীয় দলকে এগিয়ে রাখার জন্য সবরকম প্রয়াসের তিনি সাক্ষী হতে চান। ইশান কিশানের ব্যাট থেকে ভালো রান আশা করা যেতেই পারে। তাঁর বুদ্ধিমত্তা এবং ঝোড়ো ব্যাটিং করার প্রবণতাকে কুর্নিশ জানাতে চান সমর্থকরা। শিবম দুবে নিজেকে প্রকাশ করার জন্য তৈরি রয়েছেন। দলের প্রয়োজনীয় মুহূর্তে শক্তহাতে ব্যাট করা তাঁর লক্ষ্য। সূর্যকুমার যাদব অধিনায়কোচিত মনোভাব প্রকাশ করে ব্যাট করতে চান। তাঁর সামনে রয়েছে আলাদা নজির গড়া। অধিনায়ক হিসেবে তিনি যদি টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেতাব তুলে নিতে পারেন, তাহলে পরপর দু’বার ভারত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করবে। এর আগে কোনও দেশই টানা দু’বার এই বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। ভারতের কাছে বড় শক্তি বোলার ব্রিগেড। জাসপ্রীত বুমরাহ থেকে শুরু করে হার্দিক পান্ডিয়া, আর্শদীপ সিং, তিলক ভার্মা ও বরুণ চক্রবর্তীরা দুরন্ত বল করছেন। বিশেষ করে ভারতীয় দল জাসপ্রীত বুমরাহর ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে। তাঁর হাতের জাদুতে প্রতিপক্ষ দলের শিবির ভেঙে পড়তে পারে। সবমিলিয়ে বলতে পারা যায় ভারতীয় দল এই মুহূর্তে যেখানে দাঁড়িয়ে আছে তাতে খেতাব জেতাটা খুব একটা কঠিন হবে না। তবুও বলতে হয় ক্রিকেট মাঠে আগাম কোনও ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব না। হয়তো অনেকে ভাবছেন ম্যাচের রং কিভাবে বদলে যাবে তা মাঠেই প্রকাশ পাবে।
Advertisement
নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ও ফিন অ্যালেন আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। বিশেষ করে গত ম্যাচে ইডেন উদ্যানে দক্ষিণ আফ্রিকার গোটা দলকে কোনঠাসা করে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ৯ উইকেটে জয় পেয়েছে তাঁরা। সেই কারণে ভারত থেকে ট্রফি জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করতে চাইছেন অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। অধিনায়ক স্যান্টনার বলেন, আমাদের লক্ষ্য হল ভারতীয় দর্শকদের চুপ করিয়ে দেওয়া। কিন্তু ক্রিকেটে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকে এবং তা পরিবর্তনশীল। অবশ্যই চাপ থাকবে ভারতের মাটিতে খেলছি বলে। সেই চাপকে কিভাবে টপকাতে হবে সেটাই এখন বড় কথা। চলতি বিশ্বকাপে দেখেছি প্রায় সব দলই মোটামুটি একই স্তরে রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা দারুণ খেলেছিল সেমিফাইনাল ম্যাচের আগে। কিন্তু আমাদের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে তাঁদের বেশ কিছু ভুল হয়েছিল। মনে রাখতে হবে এমন কিছু ঘটনা না ঘটে যাতে ম্যাচটা আমাদের হাত থেকে বেরিয়ে যায়। আমরা যদি ঠিকমতো খেলতে পারি তাহলে একটা বড় দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন সার্থক হবে। যেকোনও প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা বলতেই স্নায়ুযুদ্ধ। সেই যুদ্ধে জয়লাভ করাটাই হলো প্রধান লক্ষ্য।
এখনও পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে ভারত ও নিউজিল্যান্ড ৩০ বার একে অপরের সঙ্গে মুখোমুখি হয়েছে। তার মধ্যে ভারত ১১টি খেলায় জয়লাভ করেছে। তবে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত এখনও নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারেনি। এই টুর্নামেন্টে ৩ বার দুই দল মুখোমুখি হয়। ৩ বারই ভারত হেরেছে। এবারে ভারতীয় দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব চাইবেন মধুর প্রতিশোধ নিয়ে খেতাব জয়ের রঙমশাল উড়িয়ে দিতে।
Advertisement



