প্রয়াত অখিলেশ যাদবের সৎ ভাই প্রতীক যাদব। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে মারা গেলেন সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং যাদব ও সাধনা যাদবের ছোট ছেলে প্রতীক যাদবের। বুধবার ভোরে লখনউয়ের সিভিল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সিভিল হাসপাতালের ডিরেক্টর জিপি গুপ্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘বুধবার ভোর ৫টা নাগাদ খবর আসে প্রতীক অসুস্থ। সঙ্গে সঙ্গে প্রতীকের বাড়িতে চিকিৎসকদের একটি টিম যায়। সেখানে গিয়ে চিকিৎসকরা দেখেন, তাঁর অবস্থা সংকটজনক। সাড়ে ৫টায় সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক জিপি গুপ্তা বলেন, ‘চিকিৎসকরা সবরকম চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু, প্রতীককে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’ ময়নাতদন্তের পরই প্রতীকের মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
প্রতীক যাদব ছিলেন বিজেপি নেত্রী তথা উত্তর প্রদেশের রাজ্য মহিলা কমিশনের সহ-সভাপতি অপর্ণা যাদবের স্বামী। রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হাওয়া সত্ত্বেও রাজনীতি থেকে অনেক দূরে ছিলেন প্রতীক | প্রতীকের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ৷ এক্স পোস্টে শোকবার্তায় তিনি লেখেন, ‘উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, ‘পদ্মবিভূষণ’ প্রয়াত মুলায়ম সিং যাদবের পুত্র এবং উত্তর প্রদেশ রাজ্য মহিলা কমিশনের সহ-সভাপতি শ্রীমতী অপর্ণা যাদবের স্বামী প্রতীক যাদবের আকস্মিক মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক । আমার সশ্রদ্ধ শ্রদ্ধাঞ্জলি । শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল । আমি ভগবান শ্রীরামের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁর আত্মার মুক্তি ঘটান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দেন ।’
সমাজবাদী পার্টি প্রতীক যাদবের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে । এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ! তাঁর আত্মা শান্তিতে থাকুক ।’ ভাইয়ের মৃত্যুতে এক্স পোস্টে অখিলেশ লেখেন, ‘প্রতীক যাদব জী’র প্রয়াণ অত্যন্ত হৃদয়বিদারক | ঈশ্বর তাঁর আত্মাকে শান্তি দান করুন, শ্রদ্ধাঞ্জলি |’
জানা গিয়েছে, এক সপ্তাহ আগে অসুস্থতার কারণে প্রতীক যাদবকে লখনউয়ের মেদান্ত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অবস্থা স্থিতিশীল হলে তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মেদান্তে প্রতীকের চিকিৎসা চলাকালীন অখিলেশ যাদব এবং ডিম্পল যাদবও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।
প্রতীক ছিলেন মুলায়ম সিং যাদবের দ্বিতীয় স্ত্রী সাধনা গুপ্তার পুত্র । তিনি ব্রিটেনের লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হয়েও প্রতীক রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন । তিনি রিয়েল এস্টেট এবং ফিটনেস ব্যবসা চালাতেন । লখনউতে ‘দ্য ফিটনেস প্ল্যানেট’ নামে একটি জিমের মালিক ছিলেন । তিনি ‘জীব আশ্রয়’ নামে একটি সংস্থাও চালাতেন, যেটি রাস্তার কুকুরদের চিকিৎসা, খাওয়ানো এবং উদ্ধার করত । ২০১১ সালে অপর্ণার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। তাঁদের এক কন্যা রয়েছে। অপর্ণা ২০২২ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। কয়েকমাস আগেই স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ করবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন প্রতীক।
প্রয়াত প্রদীপ যাদবের বন্ধু রাহুল পাঠক জানিয়েছেন, ভোর ৪টের দিকে প্রতীকের কর্মীরা তাঁকে ফোন করে । তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং তাঁর শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল । এরপর আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমাদের অন্যান্য সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁকে সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাই, যেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয় । রাহুল জানিয়েছেন, প্রতীকের অনেক দিন ধরেই শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল, তার হৃদরোগও ছিল । তবে, তিনি ঠিক কী রোগে ভুগছিলেন তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি ।
Advertisement