• facebook
  • twitter
Wednesday, 13 May, 2026

তপসিয়া অগ্নিকাণ্ড: বেআইনি কারখানার বিদ্যুৎ, জলের লাইন কাটার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

সংশ্লিষ্ট কারখানার কোনও অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ছিল না। এমনকি অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সেখানে অনুপস্থিত ছিল

তপসিয়ার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর রাজ্য জুড়ে অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, শহরের যেসব কারখানা বেআইনি ভাবে চলছে, সেগুলির বিদ্যুৎ ও জল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, তিলজলায় যে বহুতলে আগুন লেগেছিল, সেটি অবৈধ নির্মাণ বলে দাবি করে তা ভেঙে ফেলার নির্দেশও দিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার তিলজলা থানার অন্তর্গত তপসিয়ার ওই অগ্নিকাণ্ডে দু’জনের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর বুধবার সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরপর নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিতে চলেছে। শুভেন্দু বলেন, ‘তিলজলার ঘটনা নিয়ে চারটি দপ্তরের সমন্বয়ে আমরা একটি কমিটি গড়়েছিলাম। সকালেই তার রিপোর্ট দিতে বলেছিলাম। কমিটির রিপোর্টে যা পাওয়া গিয়েছে, তা রাজ্যের ক্ষেত্রে, কলকাতার ক্ষেত্রে অশনিসঙ্কেত।’

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কারখানার কোনও অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ছিল না। এমনকি অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সেখানে অনুপস্থিত ছিল। সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ।

Advertisement

সরকার ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কারখানার বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ করেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাকে ওই কারখানার সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিইএসসি-কে বিদ্যুৎসচিবের মাধ্যমে  নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর ও একবালপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ কারখানাগুলির অভ্যন্তরীণ অডিট করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিতে।

এ ছাড়া পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরকে এক দিনের মধ্যে অবৈধ কাঠামো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে পুরসভাকে সেই কাজ করতে বলা হয়েছে। বিপজ্জনক ও বেআইনি কারখানাগুলিতে জলের লাইনও বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, এই বিষয়ে সরকারের নীতি ‘জিরো টলারেন্স’।

 

 

Advertisement