• facebook
  • twitter
Thursday, 22 January, 2026

বইমেলা থেকে এসআইআর নিয়ে কমিশনকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর

এসআইআরে সাধারণ মানুষের হয়রানির পাশাপাশি নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন, কবি জয় গোস্বামীকে এসআইআর নোটিস পাঠানো নিয়ে কমিশনকে নিশানা করেন প্রশাসনিক প্রধান

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হল আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেও এসআইআর ইস্যুতে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী। এসআইআর-এর ফলে সাধারণ মানুষের মৃত্যু এবং হয়রানি নিয়ে এদিন কমিশনকে আক্রমণ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলায় এসআইআর চলছে। ইতিমধ্যে ১১০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। শুনানিতে পাঁচ-ছঘণ্টা ধরে লাইন দাঁড়াতে হচ্ছে।‘ তিনি আরও বলেন,’তথ্যগত অসঙ্গতি কোনওদিন এসআইআরে ছিল না। একমাত্র এই রাজ্যেই হচ্ছে। অন্য কোথাও হচ্ছে না। ডার্কলিস্ট, ফাইনাল লিস্ট বের হওয়ার পর যারা বঞ্চিত হয়েছেন তাঁরা যাবেন।‘

এসআইআরে সাধারণ মানুষের হয়রানির পাশাপাশি নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন, কবি জয় গোস্বামীকে এসআইআর নোটিস পাঠানো নিয়ে কমিশনকে নিশানা করেন প্রশাসনিক প্রধান। পাশাপাশি এই ইস্যুতে সবাইকে একজোট হয়ে প্রতিবাদ করার কথাও বলেন তিনি।  পদবীর গেরোয় যেভাবে মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে তা নিয়েও সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘কেউ চ্যাটার্জি চট্টোপাধ্যায় লেখেন, কেউ মুখার্জি বাংলায় মুখোপাধ্যায় লেখেন। খুব দোষ হয়ে গেছে। একজনকে বলছে পাঁচটা ছেলে-মেয়ের একই বাবা-মা হয় কীভাবে?’এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আগে তো ‘হাম দো হামারা দো’ ছিল না।‘

Advertisement

ঐতিহ্য এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় বাংলার অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘অমর্ত্য সেনকে যদি বলা হয় তোমার বাবার সঙ্গে মায়ের কত বছরের ডিফারেন্স? এর থেকে লজ্জাজনক কি হতে পারে। কবি জয় গোস্বামীকেও ডেকে পাঠানো হচ্ছে। অনেক ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারকেও ডাকা হচ্ছে।‘ তাঁর কথায়, ‘আগে ইলেকশন কমিশন নয়, জনগন নির্ধারণ করতেন কে আসবে। আর এখন ভোটের আগেই কমিশন ঠিক করে দিচ্ছে কাকে নিয়ে আসবে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে। এটা হতে পারে না। সবাই এর প্রতিবাদ করবেন। মনে রাখবেন, আমার ঘরে আগুন লাগেনি বলে, পাশের বাড়িতে লেগেছে। আমি চুপ থাকতে পারি না।‘

Advertisement

এজেন্সির ‘নির্যাতন’-এর প্রসঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে মমতা জানান, তাঁর আঁকা ছবি নিয়ে দু’টি প্রদর্শনী করার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে সিবিআই নামানো হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তখন আমার নিজেকে লাঞ্চিত মনে হয়েছিল, অপমানিত বোধ করেছি।‘ এসআইআর নিয়ে সরব হওয়ার পাশাপাশি এদিন বইমেলা থেকে বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বইমেলা কর্তৃপক্ষের আবেদনে সাড়া দিয়ে কলকাতার সেন্ট্রাল পার্কে ‘বইতীর্থ’ তৈরির ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ১০ কোটি টাকা বইমেলা কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হবে বলেও জানান। কীভাবে তৈরি হবে বইতীর্থ, তার প্রাথমিক নকশাও এঁকেছেন তিনি। তবে ব্যস্ততায় সেই নকশা আঁকার কাজ শেষ করতে পারেননি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বইমেলা প্রাঙ্গণ স্থায়ী হয়ে গিয়েছে। মহাকালধাম, জগন্নাথধামের মতো বইতীর্থ করতে চাইছে ওরা। করে দাও। আইডিয়া একটা রাফ স্কেচ করছিলাম। পুরো বই দিয়ে তৈরি হবে। ১০ কোটি টাকা আপনাদের কাছে চলে যাবে। ৫০ বছরের উদ্বোধনে এসে যেন দেখতে পাই বইমেলার সঙ্গে বইতীর্থও হয়েছে।‘

এ প্রসঙ্গে গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় বলেন, সাহিত্যসেবী ও বইপ্রেমী মুখ্যমন্ত্রীর অভিভাবকত্বেই বইমেলা আজ তার স্থায়ী ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে। শীঘ্রই এই মেলা তার সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষ স্পর্শ করবে।

এবারের মেলায় প্রায় এক হাজার প্রকাশক ও বিক্রেতা অংশ নিয়েছেন এবং থাকছে ২১টি দেশ। ফোকাল থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সেই ঐতিহাসিক ও আত্মিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় জানান, আর্জেন্টিনা ও কলকাতার এই মেলবন্ধন বইমেলাকে এক অন্য মাত্রা দেবে। এছাড়াও মেলায় মহাশ্বেতা দেবী, উত্তম কুমার, সলিল চৌধুরী এবং ভূপেন হাজারিকার নামে বিশেষ হল ও তোরণ উৎসর্গ করা হয়েছে।

বক্তব্যের শেষে গিল্ড কর্তা আশা প্রকাশ করেন যে, মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ এবং বইপ্রেমী মানুষের ভালোবাসায় এবারের বইমেলা অতীতের সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার এই বইমেলার উদ্বোধন হলেও সাধারণের জন্য তা খুলে যাবে শুক্রবার থেকে। চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

Advertisement