• facebook
  • twitter
Monday, 12 January, 2026

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে হঠাৎ নাটক শুরু পাকিস্তানের

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে বাংলাদেশের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত পিসিবি। অবস্থার কথার জেনে স্টেডিয়ামগুলো প্রস্তত রাখা হচ্ছে।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেট শুরু হতে আর একমাসও বাকি নেই। কিন্তু বাংলাদেশ এখনও গোঁ ধরে বসে যে ভারতে খেলবে না। নিরাপত্তার অজুহাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বক্তব্য, তারা শ্রীলঙ্কায় খেলতে চায়। এই ডামাডোলে পাকিস্তানের কোনও ভূমিকা থাকবে না তা কি হয়? তাই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলি আয়োজন করতে চায় পাকিস্তান। আসলে ইউনুস সরকারের আমলে যেভাবে একসময়ের ‘শাসক’ পাকিস্তানের সঙ্গে হৃদ্যতা বেড়েছে, তাতে পিসিবি এভাবে ভারতকে চাপে রাখার পরিকল্পনা করছে। ভারতে এসে বাংলাদেশের খেলা সম্ভব নয়।

নিরাপত্তার অজুহাত দিয়ে ইতিমধ্যেই আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে বিসিবি। প্রথম চিঠির জবাবে জয় শাহর আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে, শেষমুহূর্তে ভেন্যুবদল সম্ভব নয়। ভারতে নিরাপত্তা নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। শোনা যাচ্ছে, দ্বিতীয় চিঠিরও ওই একইরকম জবাব আইসিসি দেবে বাংলাদেশ বোর্ডকে। আইসিসির যুক্তি, বিসিবি শুধু মুখেই নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কথা বলছে। কিন্তু আদতে কোনও যুক্তিপূর্ণ কারণ দেখাতে পারেনি। শোনা যাচ্ছে, আইসিসি মোটামুটি মনস্থির করে ফেলেছে, বাংলাদেশের দ্বিতীয় চিঠির দাবিও নাকচ করে দেওয়া হতে পারে।

Advertisement

অন্যদিকে, বিশেষ সূত্রে জানা গেছে বাংলাদেশের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত পিসিবি। অবস্থার কথার জেনে স্টেডিয়ামগুলো প্রস্তত রাখা হচ্ছে। এক্ষেত্রে পাকিস্তানের যুক্তি, তারা সফলভাবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজন করেছে। ফলে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজন করা কঠিন কিছু নয়। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত সেখানে ম্যাচ খেলেনি। তাছাড়া পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাবে একাধিক ম্যাচ বৃষ্টির জন্য বাতিল হয়ে যায়। আরও একটি বিষয় হল, পাকিস্তান নিজে ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কায়। সেখানে বাংলাদেশ গিয়ে পাকিস্তানের মাঠে খেলবে, এটা কি আদৌ যুক্তিপূর্ণ প্রস্তাব? শ্রীলঙ্কা যৌথ আয়োজক, বিকল্প হিসেবে তাদের নাম ভাবার সম্ভাবনা থাকলেও পাকিস্তান কেন গোটা বিষয়টাকে নিয়ে নাড়াচাড়া দিতে চাইছে?

Advertisement

আসলে, বিসিসিআইয়ের উপর চাপ বাড়াতে পাকিস্তান একটা কৌশল অবলম্বন করেছে। তৃতীয় বিকল্প হিসেবে নিজেদের দেখানোর অর্থ, পক্ষান্তরে দ্বিতীয় বিকল্প অর্থাৎ শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের রাস্তা তৈরি করা। অবশ্য এশিয়া কাপের পর থেকে বিসিসিআইকে সমস্যায় ফেলার কোনও সুযোগই তারা ছাড়তে চাইছে না।

এদিকে, আইসিসির পক্ষ থেকে ভারতে খেলতে আসার জন্য কার্যত ফের একবার হুমকি দেওয়া হল বাংলাদেশকে। আইসিসির এক কর্তা জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণের কথা বলা হলেও কোনও যুক্তিপূর্ণ কারণ দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ। তাছাড়া, নিরাপত্তার দিক থেকে বহুজাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের ক্ষেত্রে অনবদ্য রেকর্ড রয়েছে ভারতের। তাই, বাংলাদেশের দাবিকে একপ্রকার অযৌক্তিক বলে মনে করছেন আইসিসির ওই কর্তা। এই প্রসঙ্গে বলা যায়, বাংলাদেশ একান্তই খেলতে না চাইলে তাদের বাদ দিয়েও টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পারে আইসিসি। বাংলাদেশের অনড় মনোভাবের সামনে কিন্তু সেই সম্ভবনা ক্রমশই বাড়ছে।

Advertisement