• facebook
  • twitter
Thursday, 1 January, 2026

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে পরমাণুকেন্দ্রের তালিকা বিনিময়

চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ১ জানুয়ারি দুই দেশ নিজেদের পরমাণুকেন্দ্র ও পারমাণবিক স্থাপনার হিসাব একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেয়

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পরমাণুকেন্দ্র সংক্রান্ত তালিকা বিনিময় হয়েছে বৃহস্পতিবার। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ১ জানুয়ারি দুই দেশ নিজেদের পরমাণুকেন্দ্র ও পারমাণবিক স্থাপনার হিসাব একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেয়। এ বছর দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও নিয়মের অন্যথা হয়নি। দিল্লি ও ইসলামাবাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপড়েন সত্ত্বেও সেই নিয়মে ব্যতিক্রম হল না। দীর্ঘদিন ধরে চালু এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হল পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যে কোনও পরিস্থিতিতেই এক দেশ যেন অন্য দেশের পরমাণুকেন্দ্রে আক্রমণ চালাতে না পারে তা নিশ্চিত করা।

এই প্রথার সূচনা হয়েছিল ১৯৮৮ সালে স্বাক্ষরিত ভারত–পাকিস্তান চুক্তির মাধ্যমে। ওই চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, কোনও পরিস্থিতিতেই দুই দেশ একে অপরের পরমাণুকেন্দ্র বা পারমাণবিক স্থাপনায় আক্রমণ করবে না। চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল পারমাণবিক পরিকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক স্থিতাবস্থা বজায় রাখা। চুক্তিটি ১৯৯১ সালের ২৭ জানুয়ারি কার্যকর হয় এবং প্রথমবার তালিকা বিনিময় হয় ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি। এরপর টানা ৩৪ বছর ধরে এই নিয়ম অব্যাহত রয়েছে।

Advertisement

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘দিল্লি ও ইসলামাবাদে অবস্থিত কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তান পরস্পরের সঙ্গে পারমাণবিক কেন্দ্রের তালিকা বিনিময় করেছে। পারমাণবিক কেন্দ্রে আক্রমণ নিষিদ্ধকরণের চুক্তি অনুযায়ী এই তালিকা বিনিময় করা হয়েছে।’

Advertisement

চুক্তিতে ‘পরমাণুকেন্দ্র’ শব্দটির ব্যাখ্যা খুবই বিস্তৃতভাবে করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রই নয়, বরং পারমাণবিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত সব ধরনের স্থাপনাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেমন– যেখানে পারমাণবিক জ্বালানি তৈরি হয় সেই উৎপাদন ইউনিট, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণের ক্ষেত্র এবং বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ আলাদা করার কেন্দ্রগুলিও এই সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে। পাশাপাশি, যেসব জায়গায় তেজস্ক্রিয় পদার্থ সংরক্ষণ করা হয়, সেগুলিকেও পরমাণুকেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়েছে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এই সব পরমাণুকেন্দ্র ও পারমাণবিক স্থাপনার নির্দিষ্ট অবস্থান প্রতি বছর একে অপরকে জানানো বাধ্যতামূলক। কোন দেশে কোথায় এই ধরনের কেন্দ্র রয়েছে, তা অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ-সহ বিস্তারিতভাবে তালিকাভুক্ত করে ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের কাছে জমা দেয়। এর উদ্দেশ্য হল, কোনও পরিস্থিতিতেই যেন এক দেশের পারমাণবিক স্থাপনা অন্য দেশের আক্রমণের লক্ষ্য না হয়। বৃহস্পতিবারও এই নিয়ম মেনেই দুই দেশ পরস্পরের সঙ্গে পরমাণুকেন্দ্র সংক্রান্ত অবস্থানগত তথ্য বিনিময় করেছে।

Advertisement