• facebook
  • twitter
Monday, 2 March, 2026

বিতস্তা, চন্দ্রভাগার জলে ভারতের দখলদারি সঙ্কট তৈরি করবে দাবি ইসলামাবাদের

ভারতের একাধিক জলাধার ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ভবিষ্যতে পাকিস্তানের জন্য গুরুতর সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে

সিন্ধু জলচুক্তি ঘিরে ফের ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের জলসম্পদ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (ওয়াপদা) চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মহম্মদ সঈদ অভিযোগ করেছেন, ভারতের একাধিক জলাধার ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ভবিষ্যতে পাকিস্তানের জন্য গুরুতর সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাঁর দাবি, পশ্চিমমুখী উপনদী বিতস্তা (ঝিলম) ও চন্দ্রভাগা (চেনাব) নদীর জল অধিক পরিমাণে সংরক্ষণের উদ্দেশে ভারত প্রায় ৬০০০ কোটি ডলারের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে সিন্ধু অববাহিকায় ভারতের জলধারণ ক্ষমতা বর্তমান ১৫ দিন থেকে বেড়ে ৫৫-৬০ দিনে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সঈদের বক্তব্য, দীর্ঘ সময় জল আটকে রাখার ক্ষমতা অর্জন করলে ভারত কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে। বিশেষ করে ফসলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিম্নপ্রবাহে জলের প্রবাহ কমে গেলে পাকিস্তানে খরা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আবার বর্ষাকালে সংরক্ষিত জল একসঙ্গে ছেড়ে দিলে বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সীমিত জলসংরক্ষণ ক্ষমতা দিয়েই ভারত ইতিমধ্যে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ফলে নিম্নপ্রবাহ অঞ্চলে পানীয় জল ও সেচের সংকট দেখা দিচ্ছে বলে দাবি পাকিস্তানের।

Advertisement

প্রসঙ্গত, গত এপ্রিলে কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত সরকার সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকেই ইসলামাবাদ ধারাবাহিকভাবে দিল্লিকে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে। তবে সেই চাপ উপেক্ষা করেই ভারত সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের কিশ্তওয়ারে চেনাব নদীর উপর নতুন ৫৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে। বিশ্বব্যাঙ্কের আর্থিক সহায়তায় সেখানে গ্রিনফিল্ড স্টোরেজ প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে ভারত জানিয়েছে।

Advertisement

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আয়ুব খানের মধ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।জলের নিরিখে সিন্ধু এবং তার শাখা ও উপনদী মিলিয়ে ৩০ শতাংশ ভারত ও ৭০ শতাংশ পাকিস্তান পাবে বলে চুক্তিতে বলা হয়েছিল। ওই চুক্তি অনুযায়ী, পূর্ব দিকের তিনটি নদী, অর্থাৎ বিপাশা (বিয়াস), ইরাবতী (রাভি) ও শতদ্রু (সতলুজ়)-র জলের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে ভারতের। অন্য দিকে, পশ্চিমমুখী সিন্ধু (ইন্ডাস), চন্দ্রভাগা (চেনাব) ও বিতস্তার (ঝিলম) জল ব্যবহার করতে পারবে পাকিস্তান। যদিও পশ্চিমের নদীগুলিতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে ভারতের বাধা নেই। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

 

Advertisement