• facebook
  • twitter
Thursday, 29 January, 2026

‘পুতিন পাগল হয়ে গিয়েছেন’, ইউক্রেনে রাশিয়ার এয়ারস্ট্রাইক নিয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে মস্কো। শনিবার মধ্যরাতে ইউক্রেনের উপর সবথেকে বড় এয়ার স্ট্রাইক চালিয়েছে রাশিয়া।

যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে মস্কো। শনিবার মধ্যরাতে ইউক্রেনের উপর সবথেকে বড় এয়ার স্ট্রাইক চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানোয় রুশ প্রেসিডেন্টের উপর চটেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বদ্ধ উন্মাদ হয়ে গিয়েছেন পুতিন। বিনা কারণে বহু মানুষকে মারছেন। উনি (পুতিন) যদি পুরো ইউক্রেন পেতে চান, তা হলে তা রাশিয়ার পতনের কারণ হবে।’

জো বাইডেনের আমলে ওয়াশিংটন পুতিন বিরোধী অবস্থান নিয়ে চলছিল। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর সেই চিত্র বদলে গিয়েছে। পুতিন, জেলেনস্কির সংঘাতে মধ্যস্থতা করতে এগিয়ে এসেছেন ট্রাম্প। পুতিনকে সম্প্রতি ‘ভালো মানুষ’ বলে সম্বোধনও করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এরই মধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনে লাগাতার হামলা চালানোয় সেই পুতিনের উপরই আস্থা হারাতে বসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

Advertisement

রবিবার নিউ জার্সির মরিসটাউন বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে ট্রাম্প জানিয়ে দেন তিনি পুতিনের উপর মোটেই খুশি নন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি জানি না পুতিনের কী হয়েছে! আমি তাঁকে অনেক দিন ধরে চিনি। কিন্তু তিনি এখন বিভিন্ন শহরে রকেট পাঠিয়ে মানুষ হত্যা করছেন। আমি এটা মোটেও পছন্দ করি না।’

Advertisement

সোশাল মিডিয়াতেও পুতিনের তীব্র সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, ‘ইউক্রেনের শহরগুলিতে কোনও কারণ ছাড়াই ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন নিক্ষেপ করা হচ্ছে। অকারণে অনেক মানুষকে হত্যা করছেন পুতিন।’ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট একেবারে পাগল হয়ে গিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জেলেনস্কির প্রসঙ্গে ট্রাম্পের মন্তব্য, ‘পুতিন যা করছেন সেই পথে হাঁটছেন না ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।’

শনিবার মধ্যরাতে কিভের পাশাপাশি খারকিভ, মাইকোলাইভ, তেরনোপিলের মতো শহরগুলিতে হামলা চালায় রাশিয়া। মোট ৩৬৭টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়েছে বলে খবর। তিন শিশু-সহ মোট ১৩ জন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছে বলে খবর। কিভের দাবি, ইউক্রেনের ডিফেন্স সিস্টেম ৬টি মিসাইল ও ২৪৫টি মিসাইলকে প্রতিহত করে দিয়েছে। তবে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে একাধিক আবাসন, পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে গিয়েছে।

এই ঘটনার পর আমেরিকাকে একহাত নেন জেলেনস্কি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট টেলিগ্রামে লেখেন, ‘আমেরিকার এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের নীরবতা কেবল পুতিনকে উৎসাহিত করে চলেছে। এই ধরনের একেকটি হামলার জন্যেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার জারি হোক।’ এরপরই পুতিনকে আক্রমণ শানালেন ট্রাম্প। এত দিন পুতিনের প্রতি কিছুটা নমনীয় থাকলেও এ বার মেজাজ হারিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি পুতিনকে নিয়ে খুশি নই। উনি অনেক মানুষকে মারছেন।’

উল্লেখ্য, ট্রাম্প সম্প্রতি যুদ্ধবিরতির উদ্দেশে পুতিনের সঙ্গে দু’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ফোনে কথা বলেন। জেলেনস্কির সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ হয়েছে। মনে করা হচ্ছিল, পরিস্থিতি ঠিক হচ্ছে। কিন্তু পুতিন তুরস্কে নির্ধারিত একটি শান্তি সম্মেলনে অনুপস্থিত থাকায় সব আশা ধুয়ে মুছে যায়। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ বলছে, রাশিয়া এখনও যুদ্ধ বন্ধের কোনও আগ্রহ দেখায়নি বরং আক্রমণের মাত্রা আরও বাড়িয়েছে।

Advertisement