পাকিস্তানকে ঘিরে তীব্র মন্তব্য করে বিতর্কের ঝড় তুললেন এক মার্কিন রাজনৈতিক কর্মী। একই সঙ্গে অতীতে ভারত সম্পর্কে সমাজমাধ্যমে করা কিছু মন্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশও করলেন তিনি। দিল্লিতে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করেন ওই কর্মী।
সম্মেলনের মঞ্চে তিনি বলেন, ‘বিশ্বে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় রপ্তানি সন্ত্রাসবাদ। আমার মনে হয় না আমেরিকার পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বাড়ানো উচিত।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। বক্তব্যে তিনি আরও দাবি করেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত বহু জঙ্গি হামলার সূত্র পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর কথায়, ‘বিশ্বের নানা প্রান্তে যে সব জঙ্গি হামলা ঘটে, তার অনেক ক্ষেত্রেই পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও না কোনও যোগসূত্র পাওয়া যায়।’
Advertisement
একই অনুষ্ঠানে অতীতে সমাজমাধ্যমে ভারত সম্পর্কে করা কিছু মন্তব্য নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগে কিছু মন্তব্য করা উচিত হয়নি। সেই কথাগুলোর জন্য আমি দুঃখিত।’
Advertisement
তিনি একটি সাম্প্রতিক ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এক পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে আমেরিকার এক শীর্ষ নেতাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছিল বলে জানান তিনি। তদন্তকারীদের দাবি অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি কয়েক জনকে ব্যবহার করে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, বহু সন্ত্রাসী কার্যকলাপের উৎস পাকিস্তানের দিকেই ইঙ্গিত করে।’ তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মসংস্থান সংক্রান্ত একটি ভিসা নীতির বিরোধিতা করার বিষয়ে তিনি নিজের অবস্থান বদলাচ্ছেন না। তাঁর দাবি, ‘আমার কাজ আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করা। কর্মসংস্থান ও অভিবাসন সংক্রান্ত আইন অনেক সময় অপব্যবহার করা হয়েছে। আমেরিকার শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় আমি লড়াই চালিয়ে যাব।’ এই মন্তব্যগুলিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, কূটনীতি এবং সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
Advertisement



