• facebook
  • twitter
Friday, 13 March, 2026

অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগে ৬০ দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু আমেরিকার

তালিকায় ভারত-চিনও

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিয়ম এবং বাধ্যতামূলক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির অভিযোগ তুলে বিশ্বের মোট ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার কথা ঘোষণা করল আমেরিকা। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, নিয়ম না মেনে উৎপাদিত পণ্য বিভিন্ন দেশের বাজারে প্রবেশ করছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিধির পরিপন্থী।

মার্কিন প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার প্রথম দফায় ভারত, চিন-সহ ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার কথা জানানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার আরও কয়েকটি দেশের নাম সেই তালিকায় যুক্ত করা হয়। নতুন তালিকায় পাকিস্তান, রাশিয়া, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা, সৌদি আরব এবং ইজরায়েলের মতো দেশের নাম রয়েছে। এই দেশগুলির মধ্যে এমন কয়েকটিও রয়েছে, যাদের সঙ্গে আমেরিকার কেবল অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত সম্পর্কও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ফলে এই তদন্তকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

Advertisement

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জানিয়েছে, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য যাতে বাজারে ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে ঐকমত্য তৈরি হলেও বহু দেশ এখনও তা কার্যকর করতে পারছে না। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির বলেন, ‘বাধ্যতামূলক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য রোধ করার বিষয়ে বহু দেশের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে সেই ব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে না।’

Advertisement

এই পরিস্থিতিতে মার্কিন বাণিজ্য আইনের ১৯৭৪ সালের ৩০১ (খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশগুলির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে আমেরিকা। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির পণ্যের উপর অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপ করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

বুধবারই জানানো হয়েছিল, চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান এবং ইউরোপীয় দেশগুলির একটি যৌথ সংগঠন-সহ মোট ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে মোট ৬০টি দেশ মার্কিন প্রশাসনের নজরদারির আওতায় রয়েছে বলেও সে সময় জানানো হয়েছিল। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই সমস্ত দেশের বিরুদ্ধেই তদন্ত শুরু করে দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপের নীতির উপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। আদালত জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের মাধ্যমে যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, তা আর কার্যকর থাকবে না।

এর পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাময়িকভাবে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তবে আইন অনুযায়ী সংসদের অনুমোদন ছাড়া এই ধরনের শুল্ক ১৫০ দিনের বেশি চালু রাখা যায় না। ফলে ওই সময়সীমার মধ্যেই ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে আমেরিকা।

Advertisement