• facebook
  • twitter
Sunday, 29 March, 2026

সৌদিতে হামলার আগে ইরানকে উপগ্রহচিত্র দিয়েছে রাশিয়া? বিস্ফোরক দাবি জেলেনস্কির

সৌদি আরবে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার আগে ইরানকে উপগ্রহচিত্র দেওয়ার অভিযোগ তুললেন জেলেনস্কি। রাশিয়ার ভূমিকায় বাড়ছে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমশ বাড়তে থাকা উত্তেজনার মাঝেই নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে। তাঁর দাবি, সৌদি আরবে মার্কিন বায়ুসেনাঘাঁটিতে হামলার আগে সেই ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ উপগ্রহচিত্র ইরানকে সরবরাহ করেছিল রাশিয়া। এই অভিযোগ সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত ২৭ মার্চ সকালে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে আচমকা ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালায় ইরান। একের পর এক হামলায় ঘাঁটির পরিকাঠামো কেঁপে ওঠে। এই ঘটনায় অন্তত ১৫ জন মার্কিন সেনা আহত হন বলে জানা গিয়েছে। হামলার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল, এত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদ সম্ভব হল কীভাবে? সেই প্রশ্নের উত্তরে জেলেনস্কির এই দাবি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

Advertisement

জেলেনস্কির বক্তব্য, হামলার কয়েকদিন আগে থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলির উপর নজরদারি চালাচ্ছিল রাশিয়া। ২৪ থেকে ২৬ মার্চের মধ্যে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং তুরস্কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও জ্বালানি পরিকাঠামোর বিস্তারিত উপগ্রহচিত্র সংগ্রহ করা হয়। তাঁর অভিযোগ, সেই তথ্য পরে ইরানের হাতে তুলে দেওয়া হয়, যা হামলার পরিকল্পনায় বড় ভূমিকা নেয়।

Advertisement

তিনি আরও জানান, ২৫ মার্চ বিশেষভাবে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির ছবি তোলা হয়েছিল। একই সঙ্গে ওই এলাকার তেল ও গ্যাসক্ষেত্র, কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্রগুলির ছবিও সংগ্রহ করা হয়। শুধু তাই নয়, কাতার এবং তুরস্কের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলির উপরও নজরদারি চালানো হয়েছিল বলে দাবি।

একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমাকে যদি জিজ্ঞাসা করেন রাশিয়া কি ইরানকে সাহায্য করেছে? আমি বলব, ১০০ শতাংশ সাহায্য করেছে।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই কূটনৈতিক অন্দরে চাপানউতোর তীব্র হয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয়, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও নজরদারি চালানো হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। সেখানে আমেরিকা ও ব্রিটেনের যৌথ সামরিক ঘাঁটির উপরও নজর রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ফলে এই ঘটনাকে শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন হামলা হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা, বরং বৃহত্তর সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবেই দেখছেন।

তবে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগ নিয়ে রাশিয়া বা ইরান কেউই প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। ফলে জেলেনস্কির দাবির সত্যতা যাচাই না হলেও, এর রাজনৈতিক গুরুত্ব যে অত্যন্ত বেশি, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তা হলে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে মেরুকরণের সম্ভাবনাও তৈরি হবে। ফলে এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর— পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়।

Advertisement