সই জাল কাণ্ড নিয়ে এখন রাজ্য-রাজনীতি উত্তাল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু এই ঘটনায় সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেন। এই নিয়ে তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ী দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেন বিধানসভার অধ্যক্ষ। আর আজ, বৃহস্পতিবার সিআইডির কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন এই দুই বিধায়ক। আর তারপরই কলকাতা পুরসভার মেয়রের বাড়িতে হানা দিল সিআইডি।
এই ঘটনায় আজ বিধায়ক অরূপ রায় ব্যাঙ্কশাল কোর্টে গিয়ে জানিয়ে দেন, সিআইডি যে সই তাঁকে দেখিয়েছে সেটি তাঁর নয়। এই কথা সংবাদমাধ্যমে বলার পর জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এবার সাতজনের সিআইডি টিম গেল ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সেখানে হাজির হন তদন্তকারী অফিসার এবং হ্যান্ড রাইটিং এক্সপার্ট। তারপর নেওয়া হয় কলকাতার মহানাগরিকের সইয়ের নমুনা। আদালত আগেই বলেছিল, সিআইডি অফিসাররা পারেন তদন্তের স্বার্থে সইয়ের নমুনা সংগ্রহ করতে।
এদিন চেতলার বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ফিরহাদ হাকিমকে বলে জানা গিয়েছে। এই সইয়ের ধোঁয়া তুলে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হয়ে গেলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এখন অবশ্য সেখানেও গোলমাল শুরু হয়েছে। তবে এই গোটা ঘটনা নিয়ে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু বলেন, ‘বিরোধী দলনেতার প্রস্তাব দিয়ে তৃণমূল যে চিঠি দিয়েছিল, তাতে ত্রুটি ছিল। তাই সেটা গ্রহণ করা হয়নি। আইন মেনে কাজ করেছি। কোনও কিছু বেশিও করিনি, কমও করিনি। তার আগে দলের চিঠিতে স্বাক্ষর নিয়ে সমস্যা ছিল, আমরা সেটা তদন্তের জন্য সিআইডিকে দিয়েছি।’
তাছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা দু’দিনের বৈঠকেই উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। তাই তিনি গোটা বিষয়টি জানেন বলে ধরে নিয়েছেন সিআইডি অফিসাররা। সেখানে গিয়ে কাদের অনুপস্থিতিতে সই হয়ে গিয়েছিল রেজোল্যুশন কপিতে সেটা জানতে চান ফিরহাদ হাকিমের কাছে বলে সূত্রের খবর। তিন বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা বৃহস্পতিবার সংগ্রহ করা হয়েছে আদালতে। তাঁরা হলেন, ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম, হাওড়া মধ্যের বিধায়ক অরূপ রায় এবং মহেশতলার বিধায়ক শুভাশিস দাস।




