ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করল আমেরিকা। এক মার্কিন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, প্রায় এক ডজন যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ ইজরায়েলে। রিপোর্ট অনুযায়ী, কয়েকটি যুদ্ধবিমান ইতিমধ্যেই সে দেশে অবতরণ করেছে।
চলতি সপ্তাহেই পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরানের নতুন করে বৈঠকে বসার কথা ওয়াশিংটনের। কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকলেও সামরিক চাপ বজায় রয়েছে। দুই দেশই একে অপরকে হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছে। এর আগেই পশ্চিম এশিয়া সংলগ্ন সমুদ্রে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছিল এবং ইরানের কাছাকাছি আকাশসীমায় যুদ্ধবিমানের আনাগোনাও বৃদ্ধি পায়।
Advertisement
এবার একসঙ্গে প্রায় ১২টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। মার্কিন প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ব্রিটেনের একটি বায়ুসেনা ঘাঁটিতে সেগুলি অস্থায়ীভাবে রাখা ছিল, সেখান থেকেই ইজরায়েলের উদ্দেশে রওনা দেয়। গত বছর ইরানের পরমাণু কেন্দ্র ঘিরে উত্তেজনার সময়ও এই ধরনের যুদ্ধবিমান তেহরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল বলে জানা যায়।
Advertisement
বিশ্লেষকদের মতে, ইজরায়েলে এই যুদ্ধবিমান মোতায়েন সামরিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিল। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এটিই প্রথম বড় পদক্ষেপ, যা আলোচনার আগে চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ঘটনাচক্রে, এমন সময় এই পদক্ষেপ করা হল যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ইজরায়েল সফরে রয়েছেন।
মার্কিন বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডেভিড এ ডেপতুলা এই যুদ্ধবিমান মোতায়েনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথায়, এই পদক্ষেপ স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—কূটনৈতিক আলোচনায় সমাধান না এলে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত আমেরিকা।
কূটনৈতিক আলোচনা চললেও সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে অঞ্চলে প্রভাব বজায় রাখতে চাইছে ওয়াশিংটন। ফলে ইরান-আমেরিকা টানাপোড়েনের জেরে পশ্চিম এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Advertisement



