মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১.৮ বিলিয়ন ডলারের ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল আপাতত স্থগিত হতে চলেছে বলে খবর। কংগ্রেসে প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, শুধু ডেমোক্র্যাটরাই নয়, ট্রাম্পের নিজস্ব রিপাবলিকান দলের একাংশও এই তহবিল নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল।
সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আপাতত এই তহবিলের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে না। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রথম এই খবর প্রকাশ করে। তাদের প্রতিবেদনে এক শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘‘এই মুহূর্তে বিষয়টি কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে।’’
গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসন এবং মার্কিন কর আদায়কারী সংস্থা আইআরএস (IRS)-এর মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতার অংশ হিসেবেই এই তহবিলের ঘোষণা করা হয়েছিল। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, সরকারি সংস্থার ‘অপব্যবহার’ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আইনি লড়াইয়ের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য এই অর্থ ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল।
দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প দাবি করে আসছেন যে তিনি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বিচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করে তাঁকে এবং তাঁর সমর্থকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই এই তহবিল গঠনের প্রস্তাব সামনে আনা হয়েছিল।
তবে প্রস্তাবটি প্রকাশ্যে আসার পরই রিপাবলিকান শিবিরের মধ্যেই অস্বস্তি তৈরি হয়। হাউস স্পিকার মাইক জনসনের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্পকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানানো হয় বলে খবর। একই সঙ্গে সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুনও এই তহবিলের পরিকল্পনা বাতিল করার পক্ষে মত দিয়েছেন। রিপাবলিকান নেতৃত্বের আশঙ্কা, এই বিতর্ক অন্য গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে প্রভাবিত করতে পারে।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের মতে, শুধুমাত্র তহবিল স্থগিত করাই যথেষ্ট নয়। সিনেটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এই তহবিলকে ‘মাগা স্লাশ ফান্ড’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, ট্রাম্পের মৌখিক প্রতিশ্রুতির উপর ভরসা করা যায় না। যদি রিপাবলিকানরা সত্যিই এই পরিকল্পনা থেকে সরে এসে থাকে, তবে আইন করে এই ধরনের তহবিল গঠন নিষিদ্ধ করা হোক।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে মার্কিন রাজনীতির গভীর মেরুকরণ। একই সঙ্গে ট্রাম্পের নীতিগত সিদ্ধান্তগুলিকে ঘিরে তাঁর নিজের দলের মধ্যেও যে মতভেদ রয়েছে, তাও সামনে এসেছে।




