• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 30 June, 2026

আমেরিকা-ইরানের ফের শান্তি বৈঠক নিয়ে ধোঁয়াশা, ট্রাম্পের দাবি অস্বীকার ইরানের

১৪ দফার সংঘর্ষ বিরতি চুক্তিতে সই করেছিল ইরান ও আমেরিকা। তবে গত চার দিনে পশ্চিম এশিয়া অনেকবার অশান্ত হয়ে উঠেছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনাও বাড়ে।

আমেরিকা-ইরানের ফের শান্তি বৈঠক নিয়ে ধোঁয়াশা, ট্রাম্পের দাবি অস্বীকার ইরানের

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক হবে। কিন্তু ইরান ট্রাম্পের তোলা সেই নস্যাৎ করেছে।

ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে দাবি করেছেন, ইরানের অনুরোধেই দোহায় বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশের মধ্যে চলা উত্তেজনা কমাতে এবং ইরানকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত রাখার বিষয়ে আলোচনা হবে। এরপর হোয়াইট হাউস জানায়, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার কাতারে যাচ্ছেন।

কিন্তু ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, আমেরিকার সঙ্গে এমন কোনও বৈঠকের বিষয়ে তেহরানের কোনও আলোচনাই হয়নি। ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘ইরানের প্রতিনিধিদল কাতারে গেলেও আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে নয়। যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত সমঝোতার বিষয়গুলি বাস্তবায়নের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই ওই প্রতিনিধিদল যাচ্ছে।’

সম্প্রতি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা দীর্ঘ সংঘাতের পর একটি যুদ্ধবিরতি সমঝোতা হয়েছিল। গত ১৭ জুন যুদ্ধবিরতি সমঝোতা সংক্রান্ত মউ স্বাক্ষর হওয়ার পরে উত্তেজনা কিছুটা কমে। ১৪ দফার সংঘর্ষ বিরতি চুক্তিতে সই করেছিল ইরান ও আমেরিকা। তবে গত চার দিনে পশ্চিম এশিয়া অনেকবার অশান্ত হয়ে উঠেছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনাও বাড়ে। হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজে হামলার ঘটনায় একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পর্ব শুরু হয়। আমেরিকা যেমন একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ঘাঁটিতে হামলার অভিযোগ তোলে, তেমনই ইরানও পশ্চিম এশিয়ায় থাকায় মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার অভিযোগ তুলেছে।

এই পরিস্থিতিতে কাতারকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সামনে রেখে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা চলছিল। এর আগেও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় দফার বৈঠক নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের বক্তব্যে বড় পার্থক্য দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশই আপাতত সরাসরি বড় সংঘাতে যেতে চাইছে না। বৈঠক হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।