মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা এক প্রতিবেদনে দাবি করেছেন, এই নীতির ফলে দেশের কৃষকরা আর্থিকভাবে চাপে পড়েছেন। আন্তর্জাতিক কৃষি বাজারে চিনের প্রভাব আরও বেড়েছে।
‘ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ: আমেরিকার কৃষক ও শ্রমজীবী পরিবারগুলির বিপর্যয়’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের চিনবিরোধী বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে মার্কিন কৃষিপণ্যের রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমেছে। বিশেষ করে সয়াবিন রপ্তানিতে বড় ধাক্কা খেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একসময় মার্কিন সয়াবিনের অন্যতম বড় ক্রেতা ছিল চিন। কিন্তু শুল্ক আরোপের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চিন মার্কিন সয়াবিন কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। পরিবর্তে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মতো দেশ থেকে আমদানি বাড়িয়েছে।
Advertisement
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে চিন প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের মার্কিন সয়াবিন কিনেছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে এই পরিমাণ ৩২ শতাংশ কমে যায়। ফলে মার্কিন কৃষকদের কাছে বিপুল পরিমাণ সয়াবিন মজুত থাকলেও তা বিক্রি করার মতো বাজার নেই। এতে কৃষকদের আয় কমে যাচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে কোন ফসল ফলানো উচিত, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
Advertisement
এছাড়া খাদ্যদ্রব্যের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে গরুর মাংসের দাম ১৬.৪ শতাংশ, কফির দাম ১৯.৮ শতাংশ, লেটুসের দাম ৭.৩ শতাংশ এবং হিমায়িত মাছের দাম ৮.৬ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে সাধারণ মার্কিন পরিবারগুলিকে আগের তুলনায় বছরে প্রায় ৩১০ ডলার বেশি খরচ করতে হচ্ছে খাদ্য কেনার জন্য।
মার্কিন সিনেটর মারিয়া ক্যান্টওয়েল বলেন, ‘ট্রাম্পের শুল্ক নীতির ফলে কৃষক ও পশুপালকরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অথচ বাজার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।’ একইসঙ্গে সিনেটর বেন রে লুজান জানিয়েছেন, ‘প্রতিটি পরিসংখ্যানের পিছনে রয়েছে একটি পরিবার, যারা প্রতিদিন আর্থিক চাপের মধ্যে বেঁচে থাকার লড়াই করছে।’
মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারও ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেন, ট্রাম্প নির্বাচনের সময় খাদ্যদ্রব্যের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে উল্টো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই প্রতিবেদনে আরও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে যে, মার্কিন খাদ্য ব্যবস্থার কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশে বিদেশি সংস্থার প্রভাব বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এছাড়া কৃষি ক্ষেত্রে দেউলিয়া হওয়ার ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে ৩১৫ জন কৃষক দেউলিয়া হয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৬ শতাংশ বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিশ্চিত বাণিজ্য নীতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির ফলে এই সংকট আরও গভীর হয়েছে। শুল্ক নীতিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব শুধু কৃষি ক্ষেত্রেই নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উপরও পড়তে পারে।
Advertisement



